আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা আফ্রিকান দেশগুলোর সামনে এখন এক নতুন এবং জটিল চ্যালেঞ্জ এসে হাজির হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, গবেষণা ও খনিজ উৎপাদনে ব্যবহৃত সংবেদনশীল রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল এবং পারমাণবিক (CBRN) উপকরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর অপব্যবহার রোধ করাই এখনকার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। প্রচলিত সংঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে এই নতুন বাস্তবতা প্রমাণ করছে যে, অর্থনৈতিক বিকাশ ও সুরক্ষাকে এখন এক সুতোয় গেঁথে এগোতে হবে। আর এই পটভূমিতেই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ‘আফ্রিকা শিল্ড’ (Africa Shield)।
সদ্য সমাপ্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কাউন্টারপ্রোলিফারেশন (অস্ত্র বিস্তার রোধ) কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সামরিক প্রতিনিধিরা এক জোড়ালো অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে—উন্নয়নকে সুরক্ষিত করা ব্যতিরেকে টেকসই অগ্রগতি অসম্ভব। বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা মানে কেবল ভূ-রাজনৈতিক সীমান্ত রক্ষা বা সংঘাত দমন নয়; বরং আধুনিক অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলোকে সুরক্ষিত করা। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী কাস্টমস ব্যবস্থা, কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের রপ্তানি মনিটরিং এবং বহুমুখী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকা শিল্ড কেবল কতগুলো নিয়ন্ত্রিত উপকরণের অপব্যবহার রোখেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিশ্বমঞ্চে এই নতুন ধারণারই বহিঃপ্রকাশ যে, অর্থনৈতিক রূপান্তর অনিবার্যভাবে নতুন কিছু নিরাপত্তা দায়িত্ব কাঁধে তুলে দেয়। সংকট তৈরি হওয়ার পর কেবল প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দিন শেষ; বরং আগাম ঝুঁকি হ্রাস, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমেই কেবল আফ্রিকার ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
দিন যত গড়াচ্ছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর সংজ্ঞায় ততটাই পরিবর্তন আসছে। আর সেই পরিবর্তনের অগ্রভাগে থেকে ‘আফ্রিকা শিল্ড’ বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে যে—উন্নয়ন এবং সুরক্ষা আজ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
প্রতিবেদক: মোঃ সোহেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক