নিজস্ব প্রতিবেদক|জনতার দেশ:
রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন চানপাড়া মুসলিমেরটেক এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, রাস্তা দখল, বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ‘চানপাড়া গার্ডেন সোসাইটি’-এর নাম ভাঙিয়ে এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী মোসাম্মৎ চম্পা আক্তার। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং আদালতে মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকলেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসীর পক্ষে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়।
চাঞ্চল্যকর যেসব অভিযোগ উঠেছে:
রাস্তা দখল ও বিক্রি: এলাকার জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা জবরদখল করে তা চড়া মূল্যে বিক্রির পাঁয়তারা চালাচ্ছে চক্রটি।
চাঁদাবাজি ও হয়রানি: নতুন বাড়ি নির্মাণকালে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলে বা বৈধ কোনো কাজ করতে গেলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে নানাভাবে বাধা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হুমকি: অভিযোগকারী মোসাম্মৎ চম্পা আক্তার এবং তাঁর পরিবারকে প্রতিনিয়ত সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর সন্তানদের মারধর ও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছে।
মিথ্যা অপপ্রচার: সামাজিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কুৎসা রটানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত চক্রের পরিচয়:
অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে আবু সায়েম (৪৩) ও বাদল মোল্লা (৪০)সহ বেশকয়েকজনের নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘চানপাড়া গার্ডেন সোসাইটি’ নামক একটি সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এই চক্রটি এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
ভুক্তভোগী চম্পা আক্তার জানান, জীবনের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি ইতোমধ্যে আদালতে মামলা প্রক্রিয়াধীন রেখেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এবং এতসব গুরুতর অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ (কল রেকর্ড, অডিও-ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য) থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে?
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে, সেখানে প্রশাসনের এমন নীরবতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
ভুক্তভোগীর দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি:
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী চম্পা আক্তার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কিন্তু আজ আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কোর্টে মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও অপরাধীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন কেন নীরব? আমরা এর সুনির্দিষ্ট জবাব চাই। অনতিবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মোবাইল কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
(উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী অনুসন্ধানে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।)