আন্তর্জাতিক ডেস্ক |জনতার দেশঃ
তিনি হলেন প্রেসিডেন্ট পল কাগামে। ১৯৯৪ সালের কথা। মাত্র ১০০ দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষকে হ*ত্যা* করা হয়েছিলো…. যাকে বলা হয় ইতিহাসের কুখ্যাত ‘রুয়ান্ডা গণহ*ত্যা’। চারিদিকে র*ক্ত*লাল পুরো দেশ,অর্থনীতি নাই, জাতিগত বিভেদে ভরা। পুরো বিশ্ব ধরে নিছিলো, এই দেশ আর জীবনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
কিন্তু দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন পল কাগামে। তিনি দেশকে শূন্য থেকে গড়ে তুলতে তিনটি অভাবনীয় ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি সরকারে যোগ দেওয়ার সাথে সাথেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অলিখিত যু’ দ্ধ ঘোষণা করেন। মন্ত্রী, আমলা থেকে শুরু করে পুলিশের ছোট কর্মকর্তা দুর্নীতির প্রমাণ পেলেই চাকরিচ্যুত ও কঠোর শাস্তি। সরকারি কর্মকর্তাদের খরচের হিসাব তদারকি করার জন্য তৈরি করা হয় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। সরকারি টাকায় মন্ত্রীদের ফুটানি, দামি গাড়ি বা ফালতু বিদেশ ভ্রমণ পুরোপুরি ব্যান করে দেওয়া হলো।
তিনি দেশে একটি নিয়ম চালু করেন, প্রতি মাসের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামাজিক সেবামূলক কাজ। দেশের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে আমলা, পুলিশ ও সাধারণ নাগরিক সবাইকে একসাথে নেমে রাস্তাঘাট পরিষ্কার, ঘরবাড়ি তৈরি ও গাছ লাগানোর কাজ করতে হবে। এই কমিউনিটি ক্লিনিংয়ের ফলে জনগণের মধ্যে ঐক্যের সৃষ্টি হয় এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা বেঁচে যায়।
ঘুষের প্রধান উৎস হলো সরকারি দপ্তরের ফাইল টানাটানি। পল কাগামে সরকারি সেবা শতভাগ ডিজিটাল করে দেন । লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা জমি রেজিস্ট্রি সবকিছু মোবাইলেই সম্ভব। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি দেখা করে ঘুষ দেওয়ার সুযোগই বন্ধ হয়ে যায়। তার কথা ছিলো, যদি সরকারি কর্মকর্তার মুখই দেখতে না হয়, তো ঘুষটা দেবে কাকে…..?
ফলাফল, যে রুয়ান্ডা ১৯৯৪ সালে লা*শে*র ওপর দাঁড়িয়ে ছিলো, আজ সেই রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালি পুরো আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে পরিষ্কার, নিরাপদ ও কম দুর্নীতিগ্রস্ত শহর। রুয়ান্ডাকে এখন বলা হয় আফ্রিকার সিঙ্গাপুর।
আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম দেশ হিসেবে রুয়ান্ডা ২০০৮ সালে একবারে ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্যাকেজিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। সীমান্ত ও বিমানবন্দরে কঠোর চেকিংয়ের মাধ্যমে প্লাস্টিক দেশে ঢোকা বন্ধ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট পল কাগামে কিগালি শহরের কেন্দ্রস্থলে গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পদচারী পথ তৈরি করা হয়। মাসে দুইবার রোববার সকালে ‘কার-ফ্রি ডে’ পালন করা হয়, যেখানে নাগরিকরা কোনো ধরনের যানবাহন চালান না৷ তারা খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।
আরেকটি চমৎকার দিক ছিলো, মুটুয়েলে দে সান্তে। এটি রুয়ান্ডার সর্বজনীন সম্প্রদায়ভিত্তিক স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে দেশের ৯০%-এরও বেশি মানুষ নামমাত্র মূল্যে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন।এর ফলে শিশু ও মাতৃমৃ**র হার রুয়ান্ডায় আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
একটি দেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরেও সঠিক ও সৎ নেতৃত্বের কারণে কয়েক দশকেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটিই পল কাগামে প্রমাণ করেছেন।
দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে শুধুই মুখে সততার বাণী দিলে হয় না, পদ্ধতিগত পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা আনতে হয়।ইচ্ছাশক্তি আর সততাই একটা জাতির ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট…..!
তথ্য সূত্রঃ
# Diary of She Rowanda.
ছবিঃ
# সংগৃহিত।