বিনোদন ডেস্ক থেকে মিলি সুলতানাঃ
ছবির এই রমণীর নাম লাইনুন নাহার খাঁন ঝুমুর। কিংবদন্তি অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানার দ্বিতীয় স্ত্রী। ঝুমুর বেশ ঠাঁটবাট নিয়ে চলতেন। আশির দশকে চলচ্চিত্র নায়িকাদের মতো ব্যাপক আলোচিত ছিলেন। দামী দামী শাড়ি গহনা পেন্সিল হিল চোখে সানগ্লাস হাতে ফ্যাশনেবল পার্স নিয়ে চলতেন ঝুমুর। এলিট শ্রেণীর রমণীদের সাথে কিটি পার্টিতে যোগদান করতেন। নিন্দুকেরা বলতো, ঝুমুর অ্যালকোহলিক ছিলেন। সিগারেট খেতেন। কখনো কখনো ল্যাভিশ লেডি হিসেবে লাইনুন নাহার খাঁন ঝুমুর ঝলমলে সিনে পত্রিকার প্রথম পাতাজুড়ে স্থান পেতেন। আজ আফসোস হয় পুরনো সিনে পত্রিকাগুলো সংগ্রহে রাখিনি বলে। ঝুমুর ছিলেন তৎকালীন চলচ্চিত্রের সুপার অ্যাকশন হিরো ড্যাশিং সোহেল রানার স্ত্রী দ্বিতীয় স্ত্রী। ১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভালোবেসে এক কন্যা সন্তানের জননী ঝুমুরকে বিয়ে করেন সোহেল রানা। ঝুমুরের কন্যার নাম ছিল ভ্রমর। ভ্রমরকে নিজ সন্তানের মত আদর করতেন সোহেল রানা। তাঁর “যাদুনগর” ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিল ভ্রমর। ভ্রমরের পিতা ছিলেন ঢাকার অন্যতম শীর্ষ স*ন্ত্রা*সী টয় (টয়ের পুরো নাম আমার জানা নেই)!!
লাইনুন নাহার খাঁন নামটি হয়ত অনেকের স্মরণে নেই। কিন্তু “ঝুমুর” বললে মানুষ তাকে চেনেন। হাইফাই সোসাইটির রমণী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ঝুমুরের নিয়তিতে অন্য কিছু লেখা ছিল। বিয়ের মাত্র সাত মাসের মধ্যে তাদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয় এবং কলহ শেষ হয় ডিভোর্সের মধ্য দিয়ে। আজিমপুর কাজী অফিসের সেই তালাকনামার সিরিয়াল নাম্বার ছিল ডি-৩১ তারিখ ২৩ শে এপ্রিল ১৯৮৫। শুধু নয় ঝুমুর তার নিরাপত্তায় আশঙ্কা প্রকাশ করে ২৫শে এপ্রিল মতিঝিল থানায় সোহেল রানা ও তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে থানায় ডায়েরি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাসুদ পারভেজ তাকে অকথ্য নির্যাতন করেছেন। এমনকি তার গায়ে হাত তুলতেও কসুর করেননি। ডিভোর্স দেয়ার এক সপ্তাহ আগে ঝুমুর সোহেল রানার উত্তরার চার নম্বর সেক্টরের বাসা ছেড়ে তার মায়ের বাসায় গিয়ে ওঠেন। ঝুমুর বলেন, তালাক দেয়ার পর সোহেল রানা তার মায়ের বাসায় এসে তাকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে চান। কিন্তু ঝুমুর সোহেল রানার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রানা রাগান্বিত হয়ে বলেন,”তোমাকে কিভাবে ফিরিয়ে নিতে হবে তা আমার জানা আছে”! এমনকি রানা তাকে প্রাণনাশের হু*মকিও দেন। তার মেয়ে ভ্রমরের ক্ষতি করবেন বলেও হুমকি দেন। তাই প্রাণভয়ে ভীত হয়ে ঝুমুরকে সোহেল রানা ও তাঁর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করতে হয়েছে।
তবে সোহেল রানা জোরালোভাবে ঝুমুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছিলেন ঝুমুর তাঁর স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রথম স্বামী সন্ত্রাসী টয়ের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন। ঝুমুর তার প্রাক্তন স্বামী টয়কে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। সোহেল রানার প্রথম স্ত্রী ছিলেন সেরনিয়াবাত পরিবারের মেয়ে। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক নৃশংস ঘটনার পর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে মেয়েটি তার মানসিক ভারসাম্য হারায়। সোহেল রানা মেয়েটিকে “পাগল” আখ্যা দিয়ে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে রানার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মিডিয়ায় কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। বলতে গেলে ঘটনা সবাই জানতেন। কিন্তু চেপে গেছেন। ঝুমুরের পর ১৯৯০ সালে সোহেল রানার জীবনে তৃতীয় স্ত্রী হয়ে এসেছেন ডা. জিনাত বেগম। এটা ছিল জিনাতের দ্বিতীয় বিয়ে। রানা- জিনাত দম্পতির একমাত্র সন্তানের নাম মাশরুর পারভেজ। মাসুদ পারভেজ আমাদের চলচ্চিত্রকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি মানুষের হৃদয়ে একজন কালজয়ী নির্মাতা ও অভিনেতা হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন। বর্তমানে প্রিয় অভিনেতা সুখে আছেন তাঁর পরিবার নিয়ে। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানার সুস্থ জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।