ক্রাইম ডেস্ক|জনতার দেশঃ
নরসিংদীর রাযপুরায় প্রতিরাতেই ভৈরব সীমান্ত থেকে নবীনগর সীমান্তের কোন না কোন স্থানে অবৈধ চুম্বক ড্রেজার বসিয়ে মেঘনার বুক চিড়ে উত্তোলন করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকার বালু। এই অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু বিক্রির টাকা প্রতিমাসে ৬ লাখ যায় উপজেলার সর্বস্তরের নেতাদের পকেটে। মজার বিষয় হচ্ছে নেতাদের মধ্যে যেমন বিভাজন রয়েছে ঠিক তেমনি নেতার ক্যাটাগরি ভেদে ভাগ-বাঁটোয়ারা নির্ধারিত হয়। সে অনুযায়ী কোন নেতা প্রতিদিন পায় ২০ হাজার আবার কেউ ১০ হাজার কেউ বা ৫ হাজার। তাছাড়া প্রতিদিন উপজেলার তিনটি পেশাজীবি সংগঠনকেও দেওয়া হয় ৩০ হাজার টাকা।
নেতা আসে,নেতা যায়।যখন যারা লংকায় যায় তখন তারাই কলা ভাগ করে খায়।এ ব্যাপারে রায়পুরাতে সরকার দলীয় কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম ওঠে এসেছে।
দীর্ঘ দিন ধরে রায়পুরাতে এমন হরিলুট চলছে।নদী মহলের দখল দারিত্ব নিয়ে বিগত দিনে পক্ষ প্রতিপক্ষের মধ্যে বন্দুক-টেঁটা যুদ্ধে হতাহতের ঘটনাও কম ঘটেনি।যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তারাই লুটপাট বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে।প্রশাসন ভাল করেই অবগত এই সিন্ডিকেটের হোতা কারা? রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ের কারণে প্রশাসন ও এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হিমসিম খাচ্ছে।রায়পুরাতে যত সহিংস ঘটনা ঘটছে তার বেশির ভাগই বালুর আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ কে কেন্দ্র করে।নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল-ফারুক, সার্কেল এসপি বায়েজিদ বিন মনসুর এর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে এবং রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান,ওসি অপারেশন নাজমুল হাসান এর দৃঢ় পদক্ষেপে রায়পুরার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইদানিং অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। এখন গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাড়িয়েছে বালু সন্ত্রাসীরা। যানবাহন,জনবল সংকট,অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্হার কারণে দুর্গম চরাঞ্চলে রীতিমতো অপারেশন পারিচালনা করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠছেনা।সন্ত্রাস দমনে অদম্য ইচ্ছে শক্তি থাকা সত্বেও প্রতিকূল পরিবেশের সাথে পাল্লা দিয়ে শতভাগ সফলতা সম্ভব হচ্ছেনা যানবাহন,জনবল সংকটের কারণে।তারপরও রায়পুরার সাধারণ নিরীহ মানুষের আশা পুলিশ প্রশাসনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অশান্ত রায়পুরা একদিন শান্ত হয়ে ওঠবে।