ক্রাইম রিপোর্টার|জনতার দেশঃ
রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং এ অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির এর বাসা থেকে রহস্য ঘেরা মাদক ও মদের আসর থেকে মোট ৮৫ জনকে গ্রেফতার করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আটককৃতদের পরিচয় সম্পর্কে জানা গেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রধান যেমন, গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো (বিএটি), প্রাণ আরএফএল গ্রুপ , দেশের শীর্ষ বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক সোসাইটি, এসিআই মোটর্স ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এই গোপন অভিসারে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতার কৃত তরুন- তরুনীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন শহরের বিত্তশালী পরিবারের সন্তান। সেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত মোবাইল কোর্ট প্রত্যেক পুরুষকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড সহ ১০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের, নারীদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০০ টাকা জরিমানা সহ অনাদায়ে আরো তিন দিনের কারাদণ্ড দেন।
পরবর্তীতে তাদেরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
উক্ত ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তরের (রিপেয়ার এন্ড মেইনটেনেন্স) শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপার নিউ মারারি) আব্দুল্লাহ আল জহির এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।
ঘটনার পরদিনই পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের আদেশে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে।
ডি আইজি জহির এর বিতর্কিত ভূমিকাঃ
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতের ওই অভিযানে ডিবি পুলিশ যখন বাড়িটি তল্লাশি করে, তখন অতিরিক্ত ডিআইজি জহির অভিযান থামাতে এবং আটককৃত কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তদবির করেছিলেন। তবে পুলিশ তা উপেক্ষা করে অভিযান সম্পন্ন করে।
প্রাথমিক তদন্তে ডিবির একটি সূত্র দাবি করেছে, ওই বাড়িতে ডিজে পার্টি ও মাদক ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হতো। পার্টি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে উপার্জিত অর্থের প্রায় ৭০% টাকা অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের তহবিলে জমা হতো আর বাকি ৩০ শতাংশ পেতেন কো- হোস্ট মাহবুবুল আলম।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা জহিরের এই জমি কেনা, ভবন নির্মাণ এবং আয়ের উৎসের সন্ধানে নতুন করে অনুসন্ধানে নেমেছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে, আব্দুল্লাহ আল জহির দাবি করেছেন, তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে বাড়ি ভাড়া দেননি। বাড়িটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম (air nb) এয়ারএনবি এর মাধ্যমে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তার নীতিমালায় মাদক ও ডিজে পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ভাড়াটিয়ারা নিয়ম ভেঙ্গে এই অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে,সেই অপরাধের দায় তাদেরই।
গোয়েন্দা পুলিশ আটককৃতদের পরিচয় এবং তাদের সেখানে জড়ো হওয়ার পেছনে পাশাপাশি অন্য কোন অপরাধমূলক বা রাষ্ট্র বিরোধী উদ্দেশ্য ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে।
তথ্যসূত্র
# গোয়েন্দা রিপোর্ট
#বিভিন্ন প্রিন্ট -ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদ
ছবিঃ
# সংগৃহিত।