বিশেষ প্রতিবেদক|জনতার দেশঃ
উচ্চ শব্দের গান, সীসার ঘনধোঁয়া, বিলাসবহুল গাড়ি, আর তরুণ তরুণীদের ভীড়, সব মিলিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার এন্ড মেনটেইন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাসাটি রূপ নিয়েছিল সার্বক্ষণিক এক নাইট ক্লাবে।
২০২৫ সাল থেকে শুরু করে প্রতি মাসে সেখানে অন্তত ২০ থেকে ২২ টি অবৈধ ডিজে পার্টির গোপন আয়োজন চলতো বলে গোয়েন্দা সূত্রে গেছে। তবে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তরা বিভাগের এক ঝটিকা অভিযানে অবশেষে ফাঁস হয়ে গেল এই রমরমা আসরের অভিসার কাহিনি।
গতকাল বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের লোম ধর্ষক বিস্তারিত তুলে ধরেন (ডিবি) উত্তরা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির।তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই ভবনে অভিযান চালানো হলে ভেতরে এক থমথমে ও উন্মাদ পরিবেশ দেখতে পান গোয়েন্দারা। ভবনের সামনে সারি বদ্ধ ভাবে রাখা ছিল প্রায় ২২টি বিলাসবহুল গাড়ি।
ভেতরে উচ্চ শব্দে বাজছিল গান, আর সীসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়েছিল পুরো পরিবেশ। উপস্হিতি তরুন তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারদেরও উপস্থিতি মেলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তরুণীর অধিকাংশরই বয়স ছিল ২০ থেকে২২ বছরের মধ্যে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চালিয়ে বাসাটব থেকে তিন বোতল মদ, ‘কুশ’ নামের একটি বিরল মাদক এবং বিপুল পরিমাণ যৌন স্বাস্থ্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ভিতরে প্রবেশ করতেই গান বন্ধ হয়ে যায় এবং উপস্থিত তরুণ তরুণীরা দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে ভবনের পাঁচটি কক্ষে গিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন।
পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে ‘ এয়ারবিএনবি’ এবং ‘ ট্রাভেলা’ নামের বিভিন্ন ফ্ল্যাট ফর্ম ব্যবহার করে এই পার্টি গুলোর সংগঠিত অনলাইন রেজিস্ট্রেশন হতো। জানা গেছে জনপ্রতি ৬০০ টাকা ফি দিয়ে তরুন তরুনীরা এতে যোগ দিতেন। অন্যদিকে অতিরিক্ত ডিআইজির এই বাসা ভাড়া দেওয়া এবং অর্থ লেনদেনের পেছনেও অবৈধ অর্থের যোগসাজস খুঁজে পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
বাসাটি থেকে মোট আটক হওয়া ৮৫ জন তরুণীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছেলেদের কে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরো ১৫দিনের) কারাভোগের দন্ড দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আটক তরুণীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৩ দিনের কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই ঝটিকা অভিযান চলে।
এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির কে পুলিশ সদর দপ্তরে (ওএসডি) করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ছবিঃ
# সংগৃহিত।