বিনোদন ডেস্ক থেকে মিলি সুলতানাঃ
অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারিণী এবং জনচিত্তহারিণী ববিতার বিয়ের দেনমোহর ছিল ৫০ লাখ টাকা। বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন ফি ছিল পঁচিশ হাজার টাকা। আর কাজি সাহেবকে দেয়া হয়েছিল পাঁচশো টাকা। ১৯৮২ সালে ৫০০ টাকার ভ্যালু নেহায়েত কম ছিলনা। গুঞ্জণ ছিল ইফতেখারুল আলমের সাথে ববিতার দুই বছর রোমান্স ছিল। কিন্তু ববিতা সেটা কখনো স্বীকার করেননি। এক্ষেত্রে অদ্ভুত রহস্যময়ী ছিলেন ববিতা। চারিপাশে গুঞ্জণের ঝড় বয়ে যেতো। কিন্তু তাঁকে সেগুলো কিছুতেই বিচলিত করতোনা। তিনি ছিলেন ধীরগতির শান্ত নদীর কুলকুল ঢেউয়ের মতো। কখনো মনে হতো বিদ্রোহী অশান্ত সাগরের মাঝখানে ববিতা এক শান্ত সুস্থির ডিঙ্গি। ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বরে ববিতা জাহাজ ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমের গলায় বরমালা পরান। পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে সাংবাদিক সম্পাদক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দুই পক্ষের আত্মীয়স্বজনদের আমন্ত্রণ করেন ববিতা। সাংবাদিকরা কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। কানাঘুঁষা চলছিল নানারকম। অর্থাৎ কি উপলক্ষে এই জমকালো পার্টি।
দুইবোন সুচন্দা চম্পাও ছিলেন পার্টি লুক ও গেটআপে। মাত্র একমাস আগে চম্পার বিয়ে হয়েছে শহীদুল ইসলাম খান জিন্নাহর সাথে। সুচন্দার পাশে ছিলেন তার দ্বিতীয় স্বামী রেজাউল মালিক। আরও উপস্থিত ছিলেন ববিতার বাবা মামা দুইভাই। এছাড়া সুচন্দা ও জহির রায়হানের দুইছেলে উপস্থিত ছিল। সুচন্দা চম্পাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল পার্টি থ্রো করার কারণ কি?কিন্তু তাঁরা রহস্যের আশ্রয় নিয়ে বলেন,”কি জানি হয়ত নতুন মুভি বানাবে। অ্যানাউন্সমেন্ট করবে। তাই আপনাদের ডেকেছে”। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সব ধোঁয়াশা খোলাসা হয়ে গেল। গেটে যখন গাড়ি থেকে ববিতা নামলেন সকলের চোখ কপালে উঠে বসে রইলো। নববধূর সাজে অনিন্দ্য সুন্দরী ববিতা। কয়েক ডজন ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলে উঠলো। লাস্যময়ী ববিতার পরনে ছিল সোনালী রঙের কারুকাজ করা কাতান শাড়ি। কানে ঝুমকা গলায় চারলহরী নেকলেস। দুই হাতভরা চুড়ি। সিঁথিজুড়ে টিকলি। বড় করে খোঁপা করেছেন। খোঁপায় ছিল চিকন অলংকারের মালা। ববিতার পাশে সুট কোট পরিহিত এক ভদ্রলোক। উনার নাম ইফতেখারুল আলম।
ববিতা ইফতেখারুল আলমের হাত ধরে হাসতে হাসতে বলরুমে ঢুকতেই বড়বোন সুচন্দা ছুটে গিয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ঘোষণা দিলেন,”ফরিদপুর নিবাসী আবদুল জলিলের ছেলে ইফতেখারুল আলমের সঙ্গে আমার বোন ফরিদা আক্তার পপির শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর (১৯৮২)। আপনারা নবদম্পতির জন্য দোয়া করবেন”। সঙ্গে সঙ্গে বলরুম করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠলো। বিয়ে হয়েছিল সকাল ১০ টায়। ববিতা বার বার বলছিলেন তিনি বেশ নার্ভাস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা তিনি অসংখ্যবার বলেছেন। আগেই উল্লেখ করেছি বিয়ের কাবিন ছিল পঞ্চাশ লাখ টাকা। কিন্তু কাবিনে কোনো উসুল দেখানো হয়নি। আলম ছিলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। বিয়েতে ববিতাকে হিরার সেট উপহার দেয়া হয়। সোনার সেট উপহার দেয়া হয়েছিল কয়েকটা। যার মূল্য ছিল পাঁচ লক্ষ টাকা। শাড়ি দেয়া হয় একশোটা। ববিতার বিয়ের শাড়ি কিনেছেন তাঁর শাশুড়ি। লাল রঙের বিয়ের শাড়ি পরতে ববিতা পছন্দ করেননি। তাই সোনালি রঙের কাতান পরেছিলেন। ববিতাকে যখন শাড়ির নাম জিজ্ঞেস করা হয় তিনি শাড়ির নাম বলতে ইচ্ছুক ছিলেন না।
ছবি: বিবাহের ছবিটি এ্যালবাম থেকে সংগৃহিত।
নোট: মিলি সুলতানা একজন বিনোদন লেখক ও সংস্কৃত মনা ব্যক্তিত্ব।
ছবির ইনসেটে: বামদিক থেকে চম্পা, ববিতা,ইফতেখার আলম এবং সর্বশেষে সুচন্দা।এটির বিয়ের আনুষ্ঠানিক ছবি।
অনুষ্ঠানে যোগ দেন ৮০ জন অতিথি। অধিকাংশ ছিলেন ববিতার আত্মীয় স্বজন। ইফতেখারুল আলমের পক্ষ থেকে হাতেগোনা কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তবে তার মা উপস্থিত ছিলেন না। পরিবারের বাইরের লোকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়করাজ ও তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী। অতিথিদের টেবিল ঘুরে ঘুরে ববিতা তাঁর স্বামীকে পরিচয় করিয়ে দেন। বিয়ের পর ববিতা আলমের গুলশানের ভাড়া করা বাড়িতে উঠেন। যদিও গুলশানে ববিতার নিজের বাড়ি ছিল।।স্বামীর ভাড়া বাড়িতে সংসার শুরু করেন ববিতা। বিয়ের পরপরই আলমকে নিয়ে আজমীর শরীফ জিয়ারত করতে যান। কিছুদিন সুখী দাম্পত্য জীবন পার করার পর ববিতার দাম্পত্য আকাশের কালো মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়। ১৯৮৭ সালের ২৪ মে ববিতা প্রথম দফায় আলমকে ডিভোর্স দেন। কিন্তু তার দুইদিন পরই অর্থাৎ ২৬ শে মে আলমের চরিত্র সংশোধনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে ববিতা তাকে পুনঃবিবাহ করেন। এই বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত লিখবো।