বিনোদন ডেস্ক|জনতার দেশঃ
অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম, ভালো নাম ঝর্ণা বসাক।। উনি ঢাকা ওয়ারীর
মদন মোহন লেনে বা টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত একটি বাড়িতে ১৭ ই আগস্ট ১৯৪৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন।।শবনমের বাবা ‘বাবু ননী বসাক’ একজন ফুটবল রেফারী ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই তার নাচের প্রতি ভীষণ আকর্ষণ ছিল।
নৃত্যের প্রতি ব্যাপক আকর্ষণ থাকায় কিশোরী বয়সে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়ার কারণে লিখাপড়ায় বেশি দূর এগুতে পারেন নি।
প্রখ্যাত সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষের এর সাথে ১৯৬৬ সালে তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।। উনারা একটি পুত্রের জনক ছিলেন। যার নাম ছিল রনি
ঘোষ।। ১৩ ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সালে রবিন ঘোষ পরলোক গমন করেন।। প্রখ্যাত পরিচালক এহতেশামের হাত ধরে তিনি ১৯৬১ সালে ” রাজধানীর বুকে” ছবিতে অভিনয় করে উনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ছবিটি রিলিজ হতে একটু দেরী হয়ে যায়।। তিনি খুব সুন্দরী ছিলেন তাছাড়া ছবিতে খুব ভালো অভিনয়ের কারণেই তিনি বিভিন্ন পরিচালক,, প্রযোজকদের চোখে পড়েন।।
ফলশ্রুতিতে তিনি আর এক প্রখ্যাত পরিচালক মুস্তাফিজ
এর ” হারানো দিন” ছবিতে প্রথম একক নায়িকা হিসেবে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেন।। ছবিটি সুপার হিট হয়ে যায়।। সেই ছবির বিখ্যাত একটি গান আজ
ও অনেকে গুনগুন করে গায়
” আমি রূপ নগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি,ইরান-তুরান পার হয়ে আজ তুমার কাছে এসেছি—–
এই ছবিতেই ঝর্ণা বসাক হয়ে যান কিংবদন্তী অভিনেত্রী
শবনম। এবং হারানো দিন,, ছবি তার প্রথম মুক্তি প্রাপ্ত ছবি হয়ে যায়।।
১৯৬২ সালে উর্দু ছবি ” চানদা” তে অভিনয় করে
সমগ্র পাকিস্তানে প্রশংসিত হন।। তারপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।। ছবির পর ছবি
এ যেনো এক শবনম ম্যাডাম এর জোয়ার।। শবনম মূলত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান দুই দেশের ছবিতেই অভিনয়
করেন। তবে শুরুতেই তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা এবং উর্দু ছবিতেই সমান ভাবে অভিনয় করে গেছেন তিনি। খুব গুণী এবং পরিশ্রমী শিল্পী ছিলেন শবনম।
এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী ১৯৯৮ সালের শেষ দিকে জন্মস্থান বাংলাদেশে চলে আসেন।। তিনি
আনুমানিক ১৭০ থেকে ১৭৫ ছবিতে অভিনয় করেছেন।। উনার প্রায় প্রতিটি ছবিই ব্যবসা সফল ছিল।শবনম অভিনীত কিছু কালজয়ী সিনেমার নাম উল্লেখ করা হলো।
হারানো দিন,কখনো আসেনি,
চান্দা , প্রীত না জানে রীত,
তালাশ, নাচ ঘর, ইউ দোস্তি ম্যায় ঘর,দর্শন, বেগানা, সাগর,
সাগর, কারওয়া,, আখেরী স্টেশন, কাজল, পয়সে, রাজা
সন্ন্যাসি , সাদিয়া, তুমি আমার, নাচের পুতুল, আন্দালিব,
আনমোল, দিল্লাগি, মন কা জিৎ, আয়না,
দোস্তি, পাকিজা, কুরবানী, শর্ত
হাম দোনো, যোগাযোগ, সহ ধর্মিনী, আমার সংসার,, লেডি কমান্ডো, বান্দিশ, মেহেন্দি,
বেপরোয়া,নদিল এবং ব্লকবাস্টার
ছবি “আম্মাজান”। বাংলাদেশে আসার পর উনার
ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি।। যাই হোক
তিনি দীর্ঘ চলচ্চিত্র সময়ে পুরস্কারও কম অর্জন করেন নি
মোট ১৩ বার তিনি যোগ্যতার লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার গুলি অর্জন করেন।।
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে শবনম পাকিস্তানে
নিগার পুরস্কারই ১৩ বার অর্জন করে রেকর্ড গড়েছেন।
জাতীয় পুরস্কার ৩ বার অর্জন করেন।।
সীতারা ই ইমতিয়াজ পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত বেসরকারি পুরস্কার অর্জন করেন।।
লাক্স স্টাইল লাইফ টাইম এচিভমেন্ট পুরস্কারে ভূষিত হন।
কিংবদন্তি এই শিল্পী এখনো বেঁচে আছেন।
*তথ্যসূত্র ও ছবি*
# সংগৃহীত।
এটি ৬০ দশকের ছবি।