ওসমান হাদী–
হে সীমান্তের শকুন
এক্ষুনি ছিঁড়ে খাওয়া আমাকে
হে আটলান্টিকের ঈগল
শিগগির খুবলে খাও আমাকে
হে বৈকাল হ্রদের বাজ
আছড়ে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করো আমাকে।
আমার রক্তরসে শুধু অসহায়ত্ব আর অভাব ;
কাগজের কামলারা তারে আদর করে মুদ্রাস্ফীতি ডাকে।
ঋণের চাপে নীল হয়ে যাচ্ছে আমার অনুচক্রিকা
সংসার চালাতে অন্তরে হয় ইন্টারনাল ব্লিডিং
কী আশ্চর্য, তবুও আমি মরছি না!
ওদিকে দোজখের ভয়ে
আত্মহত্যা করবারও সাহস পাইনা আমি!
খোদাকে বললাম,আমি মরতে চাই
তিনি বললেন, বেঁচে আছো কে বলল?
সহস্রাব্দ উন্নয়নের সাক্ষী হিসেবে
রাজা তোমাকে মমি করে রেখেছেন!
বাজারে দীর্ঘ শ্বাস ফেললে নাকি
রাজ্যের ভীষণ বদনাম হয়
রাজারও মন খারাপ হয় খুব।
কোতোয়ালরা ফরমান জারি করেছে
আমাকে সারাক্ষণই হাসতে হবে!
নইলে দেশি কুকুর ও বিদেশী মাগুর কে
এক বেলা ভালো-মন্দ খাওয়ানো হবে আমার মাংস দিয়ে
নিত্যদিন ব্রয়লারের ভুড়ি নাকি ওদের ভাল্লাগেনা!
অথবা আমাকে ভাগ দিয়ে বেঁচা হবে
মানুষেরেও তো মানুষ খাওয়ার সাধ হতে পারে, তাইনা?
ভাগ্যিস তা বিদেশি সুপারশপে বিকিহবে না
দেশী মানুষেরই তো হক বেশি আমাকে খাওয়ার!
এ দোজখ ই যখন নিয়তি
তখন আমি উদাম হয়ে ডাকছি
দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মাংসাশী বিহগদের
হে ঈগল, চিল ও ভয়ংকর বাজেরা
হে সাম্রাজ্যবাদী সাহসী শকুনিরা
তোমরা এফ থার্টি ফাইভের মতো
মিগ টুয়েন্টি নাইন এর মতো—
দলবেঁধে হামলে পড়ো আমার বুকে
আমার রান, থান,চক্ষু,কলিজা
আর সব তোমাদের গনিমতের মাল
দেশি শুয়োর খুবলে খাওয়ার আগেই
আমায় ইচ্ছেমতো ছিড়ে খাও তোমরা!
দোহাই শুধু মস্তিষ্কটা খেয়ো না আমার
তাহলে শীঘ্রই দাস হয়ে যাবে তোমরাও।
বি.দ্র.
হাদী,মৃত্যুর আগে বার বার তাকে মেরে ফেলার হুমকি
দেয়ায় তার জীবদ্দশায় এই কবিতাটি জাতির কাছে
আমানত রেখে গেছে।