শিরোনাম :
সৌদি রাজবংশের অন্ধকার ইতিহাস ও ক্ষমতার পালা বদল। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষককে হত্যা। সন্দেহভাজন খুনি রুমমেট হিসাম আবু গার্বিয়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার। কেন্দুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ ২ মাদকব্যবসায়ী আটক। আততায়ীর বন্দুক নিশানা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অস্ত্র, হত্যা, চাঁদাবাজি ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাকিব ওরফে এ্যাংকা (২৩)কে গ্রেফতার। মহিপুরে কোষ্টগার্ডের মারধরে আহত শ্রমিক কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ।কা বাউফলে গভীর রাতে দুর্বৃত্তের আগুনে ৮টি খড়কুটার কুড় ভষ্মিভূত। আমিরগঞ্জে (রায়পুরা,নরসিংদী) রাস্তা প্রশস্ত করণের নিমিত্তে সরকারি জায়গায় স্হাপিত সকল অবৈধ স্হাপনা দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান। বাউফলে ১৫০টাকার দ্ব‌ন্দ্বে অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র বা‌তিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ১৩ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর। তন্মধ্যে পুরুষ ১১ নারী ০২।
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

সৌদি রাজবংশের অন্ধকার ইতিহাস ও ক্ষমতার পালা বদল।

Reporter Name / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

সাইমুন হোসেন:

মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই আরব ভূমির প্রায় সবটাই মুসলমানদের শাসনাধীন চলে এসেছিল। প্রায় সব গোত্র মদিনা রাষ্ট্রের শাসন মেনে নিয়েছিল।মহানবী (সা.)–এর ইন্তেকালের পর প্রথম খলিফা হিসেবে হজরত আবু বকর (রা.) দায়িত্ব নেন এবং এর পরপরই আরবের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন গোষ্ঠী বিদ্রোহ শুরু করে বসে। কেউ কেউ নিজেদের নবী পর্যন্ত দাবি করে বসেন।

তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর বিদ্রোহী ছিল ইয়ামামা এলাকার (বর্তমান রিয়াদ শহরের ৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বের আল-খার্জ ও তার আশপাশের এলাকা) ভণ্ড নবী মুসাইলামাতুল কাজ্জাব। বিদ্রোহ দমনে খলিফা তাঁর ‘আনডিফিটেড জেনারেল’ খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-কে পাঠালেন।

মুসাইলামা ছিলেন বনু হানিফা গোত্রের লোক। এটি যুদ্ধবাজ গোত্র ছিল। ৬৩২ সালের ডিসেম্বরে ইয়ামামার যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ মুসাইলামা এবং তাঁর বনু হানিফাকে এমনভাবে পরাস্ত করলেন যে গোত্রটি পরের এক হাজার বছর পর্যন্ত আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি।

তবে এক হাজার বছর পর সেই বনু হানিফা থেকে এমন একজন নেতা উঠে আসেন, যাঁর উত্তরসূরিরা আরবের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হিসেবে কয়েক শতাব্দী ধরে টিকে আছেন। সেই নেতার নাম মুহাম্মদ বিন সৌদ।

১৬৮৭ সালে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ বিন সৌদ রিয়াদের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকণ্ঠের দিরিয়াহ এলাকার আমির ছিলেন। ১৭২৭ সালে আমির পদে বসেছিলেন তিনি। তাঁর পূর্বপুরুষেরাও দিরিয়াহর শাসক ছিলেন।

মুহাম্মদ বিন সৌদ যখন আমির, তখন আরবের বিরাট অংশের দখল ছিল উসমানীয় সালতানাতের হাতে। তবে কিছু কিছু এলাকা দুর্গম হওয়ায় সেগুলো উসমানীয়দের দখলমুক্ত ছিল। এর মধ্যে দিরিয়াহও ছিল।

উসমানীয়রা মূলত হানাফি মাজহাবের অনুসারী ও কিছুটা সুফি ঘরানার ছিলেন। তাঁরা মক্কা ও মদিনার ধর্মীয় বিষয়গুলোয় চার সুন্নি মাজহাবকেই (হানাফি, মালিকি, শাফিই, হাম্বলি) সরকারি স্বীকৃতি দিতেন।

উসমানীয়দের এই ধর্মীয় আক্বিদার বিরোধিতা করে ওই সময় একজন ব্যক্তি প্রচার চালানো শুরু করলেন। তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব নাজদি ইবনে সুলাইমান আত-তামিমি (১৭০৩-১৭৯২)। তিনি ছিলেন মধ্য আরবের নাজদ অঞ্চলের একজন ধর্মীয় নেতা ও সংস্কারক।

বর্তমানে সৌদি আরবের সরকারি ধর্মীয় মতবাদ যে ওয়াহাবি ধারার, তিনি সেই ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে ইসলামের বিশুদ্ধ তওহিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী মনে করেন। আর তাঁর বিরোধীরা তাঁকে অতিরিক্ত কঠোর এবং ঐতিহ্যবিরোধী সংস্কারক হিসেবে দেখেন।

আবদুল ওয়াহাবের নতুন মতবাদ প্রচারের কথা উসমানীয় শাসকদের কানে যেতেই তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে ওয়াহাব দিরিয়াহর আমির মুহাম্মদ বিন সৌদের কাছে গিয়ে আশ্রয় চাইলেন।

মুহাম্মদ বিন সৌদ তাঁকে শুধু আশ্রয় দিলেন না, নিজের ছেলে আবদুলআজিজ বিন মুহাম্মদের সঙ্গে ওয়াহহাবের মেয়ে আমিনা বিনতে ওয়াহাবের বিয়ে দিয়ে দিলেন। দুই ‘মুহাম্মদ’ বেয়াই হয়ে গেলেন।

‘দিরিয়াহ চুক্তি’ নামের একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই বেয়াই ১৭৪৪ সালে (মতান্তরে ১৭৪৫ সালে) একটি জোট গড়ে তুললেন। ঠিক হলো, নতুন এই শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক ও সামরিক দিকটি দেখবে সৌদি বংশ; আর ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনের বিষয়গুলো দেখবে ওয়াহাবি বংশ।

একদিকে ওয়াহাবিদের ধর্মীয় খানদান, আরেক দিকে সৌদিদের সামরিক খানদান। দুই খানদান মিলে আজকের রিয়াদকেন্দ্রিক দিরিয়াহতে এক মজবুত আমিরাত কায়েম করল। এই শাসনই ‘প্রথম সৌদি রাষ্ট্র’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category