স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোঃ ইউনুস বলেছেন, ঐতিহাসিক এ নির্বাচন নিয়ে জাতি গর্ব করবে। নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। রাজধানীর মিরপুর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) ও আর্মড ফোর্সেস (এ এফ ডব্লিউ সি) সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন এই সরকার প্রধান। আগামী নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে না বরং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সবার ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করবে। জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে —-তারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে অংশ নিয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা, অগ্রগতি, জাতি গঠন এবং সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনারা যে ত্যাগ ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন তার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মহামারীর মত সংকটে সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টা দেশের জনগণের কল্যাণে তাদের প্রস্তুতি ও অটল নিষ্ঠার প্রমান বহন করে।
জাতিসংঘ শান্তির রক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তিতে অবদান রাখা এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি বাড়ানোয় বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি বিশেষ মাস। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বিজয়ের মাস। আমরা সবাই গর্বের সঙ্গে স্মরণ করি সেই সব বীরকে যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও সব শ্রেণীর পেশার মানুষের আত্মত্যাগকে আমরা স্মরণ করি, যারা দেশের মুক্তির সংগ্রামে অবদান রেখেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করা সব শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সম্ভব করা সব শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং আহত হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দেশবাসীকে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানের এই আনন্দময় মুহূর্তে আসুন, আমরা সব বাংলাদেশী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।স্নাতক সম্পন্ন করা অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের গ্রাজুয়েশন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করা সত্যিই একটি বড় অর্জন।ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এমন সব নেতা গড়ে তোলার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যারা জটিল ও ক্রমবর্ধমান ভূ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেকে নিবেদিত করতে সক্ষম হবেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা এমন এক সময় আছি যখন অর্থনৈতিক কেন্দ্রিকরণের গুরুত্ব এশিয়ার দিকে স্থানান্তর হচ্ছে। বাংলাদেশ এমন একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে যা অসাধারন সুযোগ প্রদান করে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য। এ অনন্য ভূ রাজনৈতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
ডক্টর ইউনুস বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স একটি কৌশলগত স্তরের কোর্স। যা অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা বুঝার ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষম ও নেতৃত্বে দক্ষতা বৃদ্ধি করে।বিদেশি গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের উপস্থিতি আমাদের প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আমি বিশ্বাস করি, আপনারা নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হিসাবে কাজ করবেন এবং বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরো মজবুত করবেন। আমি আপনাদের আগামীর সফলতা কামনা করছি।
তথ্যসূত্র: #দৈনিক আমার দেশ।
#দৈনিক প্রথম আলো।
#ছবি ক্রেডিট: দৈনিক প্রথম আলো।