• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
Headline
রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ডেভিল, চোর, মাদক কার্বারী, মাদক সেবী ও দুই জন কিশোরসহ -গ্রেফতার ০৯! হোটেল শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি! সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৬ জন গ্রেপ্তার! বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হলেও এখনো ৪ ক্রু ৬ আরোহীর সন্ধানে মার্কিন কোস্ট গার্ড! জামালপুরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও সদর থানার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ডিআইজি, ময়মনসিংহ রেঞ্জ মোঃ জাহিদুল হাসান! জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (জেএসএস) কেন্দ্রীয় নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে! নরসিংদির রায়পুরা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে মারামারিঃ গুলি বিদ্ধ সহ আহত ১০! নাসিরনগরের সংঘবদ্ধ নারী চোর চক্রের ৫ সদস্য মৌলভীবাজারে আটক! পুলিশের ৩ জন ডিআইজি ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি ৯ জন পুলিশ সুপার সহ ২৪ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বদলীর প্রজ্ঞাপন জারি! কুমিল্লা দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ গ্রেপ্তার-৫!

মেধা বিকাশে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী ‘তুরি’ জনগোষ্ঠীর যে দরিদ্র ছেলেটি আজ গণপ্রজাতন্ত্রীবাংলাদেশ সরকারের বিচারক পদ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত!

Reporter Name
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

এডুকেশন ডেস্ক|জনতার দেশঃ

সমতলের আদিবাসী ‘তুরি’ জনগোষ্ঠীর সন্তান কাজল পাঁড়ে। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন!

ভূমিহীন কৃষক পরিবারের একমাত্র ছেলে কাজল। চরম দারিদ্র্যের কারণে একটা সময় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে বাবার সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন চান্স পান, তখন ভর্তি হওয়ার টাকা বা একটা ভালো শীতের পোশাক পর্যন্ত ছিল না।
সেদিন তাঁর বড় বোন নিজের পালিত গরু বিক্রি করে ভর্তির টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন!

পুরো তুরি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজলই প্রথম ব্যক্তি, যিনি কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। তখন সমাজ থেকে অনেকেই বাঁকা চোখে বলেছিল, “তুরির ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে! খাওয়াবে কে? থাকবে কোথায়?”

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই কাজল প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি বিচারক হবেন। দিনে ক্লাস আর বিকেলে টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছেন, বাড়িতেও টাকা পাঠিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘুমাতেন মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা!

পরপর দুইবার ব্যর্থ হলেও দমে যাননি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় মেধা তালিকায় ১৪০তম হয়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের স্বপ্ন! ফল প্রকাশের পর গ্রামে ফিরলে স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আর গ্রামবাসী রাস্তার মুখে ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁকে বরণ করে নেয়।

উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক ‘তুরি’ জনগোষ্ঠী থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি জুডিশিয়ারিতে বিচারক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
কাজলের বাবা নরেশ পাঁড়ে বলেন, “হামাদের বেটা যানি অনেক বড় হয়, গরিবের উপকারে লাগে।”
আর কাজল বলেন, “আমি আমার শিকড়কে ভুলব না। এই মাটি, এই মানুষগুলো আমাকে যা শিখিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।”

ইচ্ছাশক্তি আর সততা থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ড কখনো সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। স্যালুট কাজল পাঁড়ে! আপনার এই লড়াই কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category