আন্তর্জাতিক ডেস্ক| জনতার দেশ :
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আমেরিকার হুমকিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইসরায়েলিদের কঠোরভাবে বহিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
একেই বলে প্রকৃত মুসলিম লিডার, একেই বলে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মেরুদণ্ড! মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে অন্য দেশের (যেমন যুক্তরাষ্ট্রের) পাসপোর্ট ব্যবহার করে একদল ইসরায়েলি নাগরিক লুকিয়ে বসবাস করছিল এবং একটি প্রযুক্তি প্রকল্পে কাজ করছিল। মালয়েশিয়া যেহেতু ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে না, তাই ঘটনাটি জানতে পেরেই প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গর্জে ওঠেন। মার্কিন পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাদের আসল পরিচয় ইসরায়েলি হওয়ায়, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে কঠোরভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন এবং ওই প্রজেক্টের লাইসেন্স বাতিল করেন!
আমেরিকার গায়ে এই আঘাত লাগায় তাদের ৮ জন কংগ্রেসম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লেখে। তারা হুমকি দেয় যে, মালয়েশিয়া যদি ইসরায়েলিদের বের করে দেয়, তবে মালয়েশিয়ার সামরিক অনুদান ও নিরাপত্তা সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, সরাসরি ব্ল্যাকমেইল!
আমেরিকার এই নোংরা হুমকিকে পাত্তাই দেননি আনোয়ার ইব্রাহিম ও মালয়েশিয়ার সরকার। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— “মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র নীতি কুয়ালালামপুর থেকে ঠিক হয়, ওয়াশিংটন থেকে নয়!”
ফিলিস্তিনের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থন চিরস্থায়ী। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান এক চুলও নড়বে না। কোনো পরাশক্তির হুমকিতে মালয়েশিয়া তার নীতি বিসর্জন দেবে না।
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন লিডারদেরই প্রয়োজন, যারা আমেরিকার মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না। মালয়েশিয়ার এই সাহসী সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
তথ্য সূত্র:
# আল-জাজিরা।
# বার্তা সংস্হা রয়টার্স।
# এনডিটিভি।
# বিবিসি বাংলা।