যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষককে হত্যা। সন্দেহভাজন খুনি রুমমেট হিসাম আবু গার্বিয়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার।
Reporter Name
/ ৫
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
Share
ডেস্ক রিপোর্ট :
যুক্তরাস্ট্রে নিহত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একে অপরকে ভালবাসতেন। তাদের বিয়ের কথা চলছিল। কিছুদিন পরেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন তারা। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই কেড়ে নেওয়া হলো দুটি জীবন। দীর্ঘ আট দিন নিখোঁজ থাকার পর স্থানীয় সময় গত ২৫ এপ্রিল শুক্রবার লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত শনিবার নাহিদার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।গত শনিবার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি লেখেন নাহিদার লাশ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।
লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় বৃষ্টি সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথা বলতেন লিমন। বৃষ্টির অনেক প্রতিভা আছে। তিনি ভালো গান গাওয়ার পাশাপাশি রান্নাও করতে পারেন। লিমন পরিবারকে জানিয়েছিলেন বিয়ের বিষয়ে ভাবছেন তারা। তার ভাই দুই বছর ধরে নিজের থিসিস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন বলেও জানান জুবায়ের।
২৭ বছর বয়সী লিমন ও বৃষ্টি দুজনেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং নীতি শাস্ত্র নিয়ে পিএইচডি করছিলেন এবং নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন১৬ এপ্রিল সর্বশেষ তাদের ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল।
অতঃপর ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি। পরে তাদের খোঁজ না পেয়ে পারিবারিক বন্ধু বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। পরে টেম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যান্ক ল্যান্ড ব্রিজ থেকে গত শুক্রবার লিমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তাদের দুজনের নিহতের ঘটনায় সন্দেহভাজন ২৬ বছর বয়সি হিসাম আবু গার্বিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি লিমনের রুমমেট ছিলেন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে তিনি ভিকটিমদের হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। গত ২৫ এপ্রিল সকালে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে লেখেন, তার বোন আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ফ্লোরিডার পুলিশের কাছ থেকেই তিনি এ খবর পেয়েছেন। তিনি তার বোনের সন্ধান না পেলেও হিসাম আবু গার্বিয়া নিশ্চিত করেছে এটা আসলে দুজনের লাশ। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে লিমনের বাসায় রক্তের মধ্যে পড়ে থাকা অংশের সঙ্গে নাহিদার ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। গত ২৬ এপ্রিল এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার জামিলের ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।
টেম্পার হাওয়ার্ড ফ্রান্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ এখনো বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাব সালেহ আবু গার্বিয়া আমেরিকার নাগরিক। তিনি লিমনের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। তবে তাকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সিবিএস জানিয়েছে, আগে খুনি গার্বিয়া ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন তবে বর্তমানে তিনি এন্ডরোল ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী তিনি ২০২১ সালের বসন্ত থেকে ২০২৩ সালের বসন্ত পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেছেন এবং ম্যানেজমেন্টে বিএস ডিগ্রি নিচ্ছিলেন। এর আগে আবু গার্বিয়ার একাধিকবার গ্রেফতারের রেকর্ড রয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে হামলা এবং ফাঁকা বাড়িতে চুরি(বার্গলারি) করার অভিযোগ আনা হয় একই বছরের মে মাসে তার বিরুদ্ধে আরও একটি হামলার অভিযোগ ছিল যেগুলো আদালতের নথিতে মিসডিমিনর বা কম গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।আদালতের নথি অনুযায়ী প্রথমবার অপরাধে অভিযুক্তদের জন্য একটি ডাইভারশন প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি।তিনি ২৪ সালে সেটি সম্পন্ন করার পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে তার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, নিহত লিমন জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার করৈচরা ইউনিয়নের জহুরুল ইসলামের ছেলে। দীর্ঘদিন থেকে তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করছে।দুই ভাইয়ের মধ্যে লিমন ছিলেন বড়। তার মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্দ হয়ে পড়ে গোটা গ্রামসহ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
লিমনের চাচা জিয়াউল হক বলেন, লিমন খুবই ভালো ছাত্র ছিল। সে বিদেশে লেখাপড়া করছিল। তাকে ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল সে স্বপ্ন এখন ভেঙ্গে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ( নৌবিপ্রবি)অধ্যাপক ড. মোঃ ইসমাইল।