• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
Headline
ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু রেখে লোকসানে কৃষক-ব্যবসায়ীরা কেজিতে খরচ ১৯–২০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়! দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু, ছেলে আহত! টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ! সম্প্রতি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নাভি পিল্লাই হাসিনার দুঃশাসন নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব ছিলেন! কর্ম সংস্হানের উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার আগে প্রতিটি নাগরিক কে বাংলাদেশ সহ গন্তব্য দেশের অভিবাসন আইন সম্পর্কে জানা অতীব জরুরি! OTP ও PIN নিজের কাছে রাখুন’—সাইবার প্রতারণা নিয়ে নওগাঁ পুলিশ সুপারের সতর্কবার্তা! মাদারীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২! ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে! যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, জ্যোতির মৃত্যুকে ঘিরে নতুন রহস্য উন্মোচনের পথে! নিখোঁজ ব্যক্তি উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর করল ১৬ এপিবিএন!

সম্প্রতি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নাভি পিল্লাই হাসিনার দুঃশাসন নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব ছিলেন!

Reporter Name
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬


আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জনতার দেশঃ
শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নভানেথমে নাভি পিল্লাই। বিশেষ করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিপুল সংখ্যক আসামির বিচার, হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ২০১৩ সালে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন তিনি।
একই সময়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদন্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন এই আইনজীবী ও বিচারক।
শুক্রবার ৯ অক্টোবর নাভি পিল্লায়ের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর সামনে আসার পর তৎকালীন সরকারের আমলে মানবাধিকার নিয়ে তার অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং মানবাধিকারের সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এই মানবাধিকার কর্মী।
তবে নাভি পিল্লাইয়ের বক্তব্যের তাৎপর্য বুঝতে হলে তার সমালোচনার নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার প্রয়োজন। তার উত্থাপিত প্রশ্ন গুলো মূলত বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসরণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
তাই এসব বক্তব্যকে শেখ হাসিনার পুরো শাসনামল সম্পর্কে তার সামগ্রিক মূল্যায়ন হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ হবে না।
পিলখানা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগঃ
নাভি পিল্লাইয়ের আলোচিত বক্তব্য গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তার উদ্বেগ।২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার একটি বিশেষ আদালত এ মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর দিন ৬ নভেম্বর বিচার প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পিল্লাই।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের( বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অপরাধের বিচার করতে গিয়ে অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা সেটিও নাভি পিল্লাইয়ের উদ্বেগের বিষয় ছিল।
তৎকালীন বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তার আপত্তির মধ্যে ছিল বিপুলসংখ্যক আসামিকে একসঙ্গে বিচারের মুখোমুখি করা, পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এবং অভিযুক্তদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ। হেফাজতে কয়েক জনের মৃত্যুর খবর এবং নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা প্রমাণ আদালতে ব্যবহারের অভিযোগ ও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছিল।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, তদন্তের ফলাফল এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদেরজবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পিল্লাই।তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল গুরুতর অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে। তবে সেই বিচার হতে হবে ন্যায় সঙ্গত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার নিয়েও উদ্বেগঃ
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ১৯৭১ সালে সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না হওয়া এসব অপরাধের বিচার বাংলাদেশের রাজনীত ও ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।
তবে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রতিরক্ষা পক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন যোগাযোগ ও পর্যবেক্ষনেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি যোগাযোগে আব্দুল কালাম আজাদের অনুপস্থিতিতে বিচার, রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর পর্যাপ্ততা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
তবে বিষয় ছিল প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও উদ্ভেগ ;এগুলোকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবেনা।
এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ছিল দুইটি পৃথক ঘটনা ও স্বতন্ত্র বিচার প্রক্রিয়া। নাভিপিল্লাইয়ের এর উদ্বেগের কেন্দ্রেও ছিল নির্দিষ্ট মামলা গুলোর ন্যায্যতা এবং সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার পরিস্থিতি। তার বক্তব্য থেকে বুঝা যায়,
গুরুতর অপরাধের বিচার করার সময়ও আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করতেন।
মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ কর্মজীবনঃ
নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার একজন আইনজীবী ও বিচারক। বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন তিনি।
গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন, এবং যৌন সহিংসতার বিচার, তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুলোর মধ্যে অন্যতম দৃষ্টান্ত।আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রক্ষাও তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
শুক্রবার ৯ অক্টোবর, নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা অন্যতম উপাদান।

তথ্য সূত্রঃ

# ইত্তেফাক

#বিবিসি

#দ্য ডেইলি স্টার বাংলা

ছবিঃ

# সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category