প্রবাসী ডেস্ক |জনতার দেশঃ
বিদেশ গমনের পূর্বে একজন প্রবাসীর যে তথ্যগুলো জানা অত্যাবশ্যকীয় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
*তথ্য ও চুক্তি জানার অধিকারঃ
বিদেশে যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক প্রবাসীর কাজের পরিবেশ, বেতন, চুক্তির শর্তাবলী স্পষ্টভাবে জানার অধিকার রয়েছে।
*আইনিও দূতাবাস সহায়তাঃ
বিদেশে কোন কর্মী নির্যাতনের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস শ্রম উইং থেকে আইনগত সহায়ত পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
*ক্ষতিপূরণ দাবিঃ
কোন রিক্রুটিং এজেন্ট চুক্তি লংঘন করলে বা প্রতারণা করলে তার পরিবার দেওয়ানী আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারেন।
*প্রত্যাবর্তন খরচঃ
রিক্রটিং এজেন্ট এর অবহেলা বা জালিয়াতির কারণে কর্মী বিপদে পড়লে ফিরিয়ে আনার সম্পূর্ণ খরচ ওই এজেন্টকে বহন করতে হবে।
ভিসা জালিয়াতি এবং মানব পাচার ঠেকাতে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে একটি কঠোর আইন ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করেছে।
*অবৈধভাবে কর্মী প্রেরণ বা প্রতারণা (ধারা ৩১)
প্রবাসে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘিত হলে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড তম এক লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
*ভিসা বা চাহিদা পত্র কেনাবেচা ধারা (৩৩)
যদি কেউ অবৈধভাবে ভিসা বা চাকরির চাহিদা পত্র বেচাকেনা করে তাহলে ২ থেকে ৭ বছরের সব সশ্রম কারাদণ্ড এবং নূন্যতম ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।
* প্রবাসী কর্মীদের দায়-দায়িত্ব (ধারা ৩০ ক)
এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্ম সংস্হান মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী কর্মীদের কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রবাস যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বৈধ( বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে হবে। বিদেশে গিয়ে কোন ধরনের অবৈধ কর্মে লিপ্ত হওয়া যাবে না এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সঠিক তথ্য সরকারকে প্রদান করতে হবে।
*বর্তমান পরিস্থিতি ও বিশেষ সতর্কবার্তা (অক্টোবর ২০২৬)*
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় কর্মি কোটা জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের আইনগত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে যা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
*কোটা জালিয়াতি ও A-to-B সিন্ডিকেট*
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM)কুয়ালালামপুরে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ জন বাংলাদেশি সহ ২০ জনকে আটক করেছে।অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি নামে কাজের কোটা ও ভিসা (e-PLKS)অনুমোদন নিয়ে কর্মীদের অন্য কোম্পানিতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সরবরাহ করত।
মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী -যেসব বিদেশি কর্মী তাদের আসল স্পনসর কোম্পানির অধীনে কাজ না করে অন্যত্র কাজ করবেন তাদের অবৈধ হিসেবে গণ্য করে ডিটেনশন সেন্টারে আটক করা হবে।
তাই প্রতিটি প্রবাসীকে বিদেশ যাওয়ার আগে আইনগত জটিলতা এড়াতে সর্বদা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট এর মাধ্যমে এবং সঠিক কর্মসংস্থান চুক্তি নিশ্চিত করে গন্তব্যে পাড়ি দেওয়া উচিত।
অবৈধ ভাবে কর্মি প্রেরণ এবং মানব পাচার ঠেকাতে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।
তথ্যসূত্রঃ
# প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
#laws of Bangladesh
#The daily star
# প্রথম আলো
ছবিঃ
# সংগৃহিত।