আন্তর্জাতিক ডেস্ক |জনতার দেশ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন,দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে মেরামতে সরকার (রিকভারি রেস্টুরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) অর্থাৎ নতুন ভাবে পুনর্ঘটন প্রক্রিয়ার কৌশল অনুসরণ করছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একথা বলেছেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে । প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ এর সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি “মেনুফাকচারিংহাব” হিসাবে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।
তিনি জানান, দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য ‘স্টার্ট -আপ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।
নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার( ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর রাত ৪টা বিশ মিনিট) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অধিবেশনে ভাষণ শুরু করেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান।
অধিবেসনে যে কোন সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিবাদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে “সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহু পাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ যেখানে মারণাস্ত্র নয়’ বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠবে যুক্তিতর্ক কূটনীতিশিক্ষা ও মানবতা।
এমন একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ কে দেখতে চায় বলেও জানান তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাকে বিশ্ব শান্তির অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
বিশ্বমানবতা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।