নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ (চৌয়ালা)-কে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অর্থায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলোচিত ঠিকাদার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও, বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আবারও পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই ‘মাফিয়া’ ঠিকাদার। এতে করে সাধারণ ঠিকাদার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের দাপটে একচ্ছত্র সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২-এ একক আধিপত্য কায়েম করেছিলেন আবুল কাশেম। তার দাপট ও সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে অন্য কোনো সাধারণ ঠিকাদার সেখানে কাজ করার সাহস পাননি। টেন্ডারবাজি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তিনি পল্লী বিদ্যুতের কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
৩৬শে জুলাই ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অর্থায়ন
সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ হলো—গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমাতে সরাসরি মাঠে ছিলেন এই ঠিকাদার। পল্লী বিদ্যুৎ থেকে অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা তিনি খরচ করেছেন ছাত্র আন্দোলন দমনে। গত “৩৬শে জুলাই” (৫ই আগস্টের পূর্ববর্তী দিনগুলোতে) ছাত্রদের ওপর হওয়া সশস্ত্র হামলায় তিনি সরাসরি অর্থায়ন করেছেন এবং তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আবারও মাথাচাড়া
গত ৫ই আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন আবুল কাশেম। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আমেজ কাটতে না কাটতেই তিনি আবারও স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। নরসিংদী পল্লী বিদ্যুতের ভেতরে থাকা কিছু সুযোগসন্ধানী ও অসাধু কর্মকর্তার হাত করে তিনি আবারও কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নেওয়ার পাঁচতারা করছেন।
আতঙ্কিত সাধারণ ঠিকাদাররা
কাশেমের সাথে রয়েছে স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং বিগত আমলের বেশ কিছু প্রভাবশালী ‘রাঘববোয়াল’। ফলে তার এই পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টায় সাধারণ ও বঞ্চিত ঠিকাদাররা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ ঠিকাদারদের দাবি—পল্লী বিদ্যুতের এই ‘রক্তচোষা’ মাফিয়া এবং ফ্যাসিবাদের দোসর আবুল কাশেমের অতীতের সকল দুর্নীতি ও ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একই সাথে, যেসকল অসাধু কর্মকর্তা তাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।