কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি|জনতার দেশঃ
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের আরশিনগর ও আশপাশের এলাকায় ফরহাদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় তিনি একটি নিজস্ব প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আরশিনগর টাওয়ার, আম্বিয়া স্কুলের গলি, বসিলা ব্রিজের নিচের এলাকা ও চরসপুরসহ বিভিন্ন স্থানে তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত কিছু কিশোর ও যুবককে নিয়ে একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কম দামে বিতর্কিত বা বিরোধপূর্ণ জমি কেনার পর সেসব এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া মোহাম্মদপুর ও বসিলা এলাকায় তার কথিত যোগাযোগ ও প্রভাববলয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ফরহাদের সঙ্গে রানা নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা থাকার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ফরহাদ অতীতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতেন। আবার ৫ আগস্টের পর বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও করেছেন তারা। রাজনৈতিক পরিচয় সংক্রান্ত এসব দাবিরও নিরপেক্ষভাবে যাচাই প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকলা মিজান ওরফে মিজানের সঙ্গেও ফরহাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও আইনগত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, ফরহাদের বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার প্রকৃত সংখ্যা, ধারা ও বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট থানার নথি ও আদালতের রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও কেন কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ দাবি করেছেন, অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে বিষয়গুলো ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও বাস মালিকদের কয়েকজনও ফরহাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরহাদের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদকের দাবি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে ফরহাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টিও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট থানা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইনসেটে,মাদক ব্যবসায়ী রানা।