আন্তর্জাতিক ডেস্ক|জনতার দেশঃ
তিনি।হলেন জেনারেল জাভেদ নাসির, যিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বসনিয়ার মুসলমানদের জন্য যিনি আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন!
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়ার যুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘ সবার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা মূলত সার্বদেরই বেশি সুবিধা দিয়েছিল। কারণ, সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বিশাল সেনাবাহিনীর অস্ত্রভান্ডার সার্বদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে, বসনিয়ার মুসলমান তথা বসনিয়াকরা প্রায় সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় ছিল।
তাহলে জেনারেল জাভেদ নাসির কী করেছিলেন?
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সৌদি অর্থায়নে একটি গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI তুরস্ক ও ইরান হয়ে পাকিস্তান থেকে সারায়েভো পর্যন্ত একটি গোপন আকাশপথে অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
প্রকৃতপক্ষে, ১৯৯৫ সালে জেনেভায় পাকিস্তান অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করে এবং সব ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে বসনিয়াকদের সমর্থন দেওয়ার কথা জানায়।
কীভাবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে?
অভিযোগ অনুযায়ী, জেনারেল জাভেদ নাসির নিজেই এই অভিযানের কথা স্বীকার করেছিলেন!
২০০২ সালে ব্রিটিশ আদালতে জমা দেওয়া তাঁর একটি আনুষ্ঠানিক আত্মপক্ষসমর্থনমূলক নথিতে তিনি লিখেছিলেন:
“অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আমি সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিলাম, যা যুদ্ধের মোড় বসনিয়াক মুসলমানদের পক্ষে ঘুরিয়ে দিয়েছিল এবং সার্বদের অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য করেছিল। এতে আমেরিকা ক্ষুব্ধ হয়েছিল।”
এসব বক্তব্যের পর ২০১১ সালে দ্য হেগের আদালত পাকিস্তানের কাছে জাভেদ নাসিরকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানায় বলে দাবি করা হয়। তবে পাকিস্তান সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
জেনারেল জাভেদ নাসির ২০২৪ সালে ৮৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
আজও বসনিয়ার মুসলমানদের কাছে তিনি একজন বীর হিসেবে স্মরণীয়।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।
তথ্য সূত্রঃ
# পাকিস্তানের ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম ” দ্য ডন”
# কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম “আল জাজিরা”
ছবিঃ
# সংগৃহিত।