• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
চব্বিশের আন্দোলনে লুট হওয়া ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ১! সাইবার ট্রাকের উৎপাদন বন্ধ করছে টেসলা! আইজেনকোট না নেতানিয়াহু? শেষ পর্যন্ত যার হাতে যাচ্ছে ইসরাইলের মসনদ? ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদে ৭ ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়নি! নরসিংদী জেলা পুলিশের অভিযানে খুন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত অপরাধী আবু লালকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার! নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর: এক দিনেই ঘুরে আসুন প্রাচীন দুর্গ-নগরী! কলাপাড়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত! টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি: গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৫৭ জন উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩; অস্ত্র উদ্ধার! নওগাঁয় যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ নেই, বলাকা ক্লিনিকের ওয়ার্ড বয় আটক! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা লে.জেনারেল আবু সালেহ মো: নাসিম!

আইজেনকোট না নেতানিয়াহু? শেষ পর্যন্ত যার হাতে যাচ্ছে ইসরাইলের মসনদ?

Reporter Name
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে রোববার ঘোষণা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। দেশটির বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে সরকার গঠনের পক্ষে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বেশি সমর্থন পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তিনি।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজগ। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা সাবেক সামরিক প্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট—কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি।
নেতানিয়াহু ডানপন্থি রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। গত তিন বছর ধরে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইসরাইলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, সাবেক সামরিক প্রধান আইজেনকট জাতীয় ঐক্য পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকলেও প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সংসদ সদস্যদের বেশি সমর্থন পাওয়া নেতাকেই সাধারণত এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার ৬৭ জন সংসদ সদস্য আইজেনকটকে এবং ৪৬ জন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন। সাতজন কোনো পক্ষকেই সমর্থন করেননি।
বৃহস্পতিবার হারজগ বলেন, ‘আলোচনার ফলাফল দেখে বিষয়টি পরিষ্কার মনে হতে পারে। কিন্তু আইন অনুযায়ী, সরকার গঠনের সক্ষমতা কার রয়েছে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আমার। দুপক্ষের মধ্যে এবং একই জোটের দলগুলোর মধ্যেও পারস্পরিক বিরোধ থাকায় বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি সরাসরি এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব। এ জন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করব।’
আইজেনকটের দল ইয়াশার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার সরকারের প্রতি আস্থার অভাব প্রকাশ করেছে।
দলটি আরও বলেছে, ‘ইসরাইলের সব নাগরিকের জন্য কাজ শুরু করতে দ্রুত একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করা প্রয়োজন।’
সরকার গঠনে আরব দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
নির্বাচনে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি রাজনৈতিক জোট মোট ১৯টি আসন পেয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। আইজেনকটের বিরোধী জোট যদি তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চায়, তাহলে দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ উভয় দলই আইজেনকটকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
তবে আইজেনকটের জোটের আরেক শরিক ডানপন্থি দল ইসরাইল বেইতেনু বারবার জানিয়েছে, আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারে তারা অংশ নেবে না।
দলটির নেতা আভিগদর লিবারম্যান একসময় নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। পরে তিনি নেতানিয়াহুর সমালোচকে পরিণত হন। লিবারম্যানের অভিযোগ, আরব দলগুলো হামাসকে স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেনি। যদিও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা একাধিকবার জানিয়েছে দলগুলো।
সামরিক সেবা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি নিয়ে বিরোধ
এদিকে, গত পাঁচটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া অতি-ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবার হারজগের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহুকে নতুন করে সমর্থনের সুপারিশ করেনি। তবে আইজেনকটের পক্ষেও অবস্থান নেয়নি দলটি।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দলটি কোনো সংসদ সদস্যকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে দলটির আসনসংখ্যা সাত।
আরেকটি অতি-ধর্মীয় দল শাসের সঙ্গে মিলে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছে।
নেতানিয়াহু এ অব্যাহতি বহাল রাখলেও বিষয়টি এখনো আইনে পরিণত করেননি। এ নিয়ে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। কারণ, গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দেশটির বহু রিজার্ভ সেনাকে বারবার সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সংসদ সদস্য আইজ্যাক পিনড্রাস বলেন, ‘পরবর্তী সরকার যে দলই গঠন করুক না কেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও সামরিক সেবা থেকে তাদের অব্যাহতির বিষয়টি সমাধান করা।’
অন্যদিকে, বাম ও ডান—উভয় ঘরানার ধর্মনিরপেক্ষ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করলেও আইজেনকট সামরিক সেবা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি বাতিলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
তার বিরোধী জোটের কয়েকজন নেতা অতি-ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের হলেও তাদের জন্মহার তুলনামূলক বেশি। ফলে রাষ্ট্রের ওপর তাদের আর্থিক ও সামাজিক চাপও বেশি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এই অবস্থানের মূল উদ্দেশ্য নেতানিয়াহুকে চাপে রাখা এবং নিজেদের সমর্থনকে নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া। তবে নেতানিয়াহু সরকার গঠন করতে পারলে দলটি সেই সরকারেও যোগ দিতে পারে।
সরকার গঠনে সময় পাবেন ২৮ দিন
প্রেসিডেন্ট হারজগ কোনো একজন সংসদ সদস্যকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন।
নতুন পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। এর মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আসনও রয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি সরকারের প্রতি ক্ষোভ এবং আরব ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক আচরণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের কারণে এবারের নির্বাচনে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
তবে আরব সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিরোধী জোটের সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টি নিয়েও নেতানিয়াহু ধারাবাহিকভাবে সমালোচনা করে আসছেন।
বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিদেশি শক্তিগুলো অর্থ ঢেলেছে বলে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আরব নাগরিকদের আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তথ্য: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ছবিঃ

সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category