নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:
নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর তালতলি সাব-জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চরম অমানবিকতা, মানসিক হয়রানি ও হুমকির মুখে এক অসুস্থ লাইন টেকনিশিয়ানকে বাধ্য হয়ে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। তীব্র মানসিক চাপ ও অসুস্থতার মধ্যে দায়িত্ব পালনকালে স্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোঃ ফজলুল হক (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) নামের ওই কর্মচারী।
আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ সমিতির সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
হুমকি দিয়ে কর্মস্থলে যোগদান ও নির্মম পরিণতি
নিহতের সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইন টেকনিশিয়ান মোঃ ফজলুল হক দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা ও চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন, যা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লিখিত ও মৌখিকভাবে অবগত ছিল। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ছুটি চলাকালীনই তাকে জরুরি ভিত্তিতে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
সহকর্মীদের অভিযোগ, ফজলুল হক তার অসুস্থতার কথা জানিয়ে আরও কয়েক দিন সময় প্রার্থনা করলেও কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দেয়। উল্টো “দ্রুত কর্মস্থলে উপস্থিত না হলে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হবে”—এমন কঠোর হুমকি দেওয়া হয়। চাকরি হারানোর ভয়ে বাধ্য হয়ে ভাঙা শরীর নিয়ে তিনি অফিসে যোগ দেন।
অফিসেই স্ট্রোক ও মৃত্যু
অভিযোগ রয়েছে, অসুস্থ শরীরে অতিরিক্ত কাজের চাপ ও কর্মকর্তাদের মানসিক টর্চারের কারণে অফিসে দায়িত্ব পালনকালেই হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন ফজলুল হক। একপর্যায়ে তিনি স্ট্রোক করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; আজ ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
কর্তৃপক্ষের ‘স্টিম রোলার’ ও তদন্তের দাবি
ফজলুল হকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচা