৮ কোটি টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসকের চেয়ারে বসতে চান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কর্মকর্তা এস এম সরোয়ার কামাল। এমন অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে তাকে যে নোটিশ দেয়া হয় তাতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে সরোয়ার কামাল একটি অঙ্গীকারনামা ও সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন,যেখানে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি উঠে এসেছে।তিনি চট্রগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এর সাথে এই গোপন চুক্তিটি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন -২ শাখা থেকে জারি করা ওই নোটিশে তাকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
চসিক মেয়র ডাক্তার শাহাদাত হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। যেহেতু মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছেন তাই তার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই । তবে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।বিগত দিনে
একের পর এক অভিযোগ এস এম সরোয়ার কামাল কে ইস্যু করা তিনটি বদলি আদেশ বাতিল করেন সিটি মেয়র ডাক্তার শাহাদাত হোসেন। অনিয়মের অভিযোগ ওঠা তিনটি বদলি আদেশ গত ১২ এপ্রিল এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগের গতি বাড়াতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায় কারিকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। তারই আলোকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে তার একটি তালিকা মেয়র নিজে ঠিক করে দেন। একেক টি কর অঞ্চলে কয়েকটি ওয়ার্ড রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হবে তা ঠিক করার জন্য মেয়র মৌখিকভাবে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে বলে দেন। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে থেমে তো একেক জনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। মেয়রের নির্দেশিত সেই ১৪ জনের বাইরে আরো অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা ওকর আদায়কারী কে বিভিন্ন অঞ্চলে বদলির আদেশ দিয়ে তিনটি চিঠি ইস্যু করেন। বিষয়টি মেয়রের নজরে এলে তিনি তা বাতিল করে দেন।
এ ব্যাপারে রাজস্ব বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন,মজিদ রাশেদ ও দবির এই তিনজনকে কর কর্মকর্কার স্কেল দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাটিয়ে নিয়েছেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা। এ ধরনের লিখিত একটি অভিযোগ মেয়র এর কাছে দিয়েছেন বঞ্চিতরা।
বঞ্চিতদের অভিযোগ মূল পদে স্থায়ী না করার কারণে তারা তিনজন স্কেল পায় না। কিন্তু তাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিকনিকের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশ পুরনো। তা ছাড়া সার্কেল ভিজিট করতে গেলেই তাকে সম্মানীর নামে মোটা অংকের অর্থ ঘুষ দিতে হয়। চসিকের এই রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল কে আপাতত: তিন মাস ছুটিতে রেখে তার অভিযোগ গুলো তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে চাকুরিচ্যুত করার পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করত: স্হানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পদায়ন বঞ্চিত চসিক কর্মচারী কর্মকর্তা গণ।
সূত্র:
# দৈনিক আজকের পত্রিকা
# দৈনিক প্রথম আলো।
# ctgpost.news
#prime news bd
#খবরের কাগজ
#চাটগাঁর চোখ
#,নাগরিক প্রতিদিন
#দেশ রূপান্তর