মো: মনিরুল ইসলাম।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেফতারের পর মনে পড়ল ২০০৮ সালের কথা। ১/১১ এর সময় নরসিংদী ডিসি অফিসে যাই এক দিন।
তবে একেবারে দিনক্ষণ মনে নেই। শীতের সকাল। সে সময়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ছিলেন বাঞ্ছারামপুরের সাবেক একজন ইউএনও। তিনি এখন(সচিব) অবসরে চলে গেছেন। আমি আমার সহকর্মী তৎকালীন নরসিংদীর প্রথম আলোর প্রতিনিধি আমার সঙ্গে ছিলেন। দেশে তখন সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিনের সরকার। দেশের “শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের” নিয়ে দুটি তালিকা প্রকাশ করে টাস্কফোর্স। ৫০ জন করে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রথমটিতে দেশের শীর্ষ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম ছিল। প্রথম তালিকায় নরসিংদীর থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির মোল্লার নামও ছিল। ওই তালিকার মধ্যে যাদের নাম ছিল তাদের কেউ কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন তখন। বেশিরভাগই আটক হয়েছিলেন যৌথবাহিনীর হাতে। কিন্তু কাদের মোল্লা আটকও হননি বা তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েও যাননি।
তবে সেসময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কাদির মোল্লাকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। বিদেশ পালিয়ে না গেলেও কেন তিনি গ্রেফতার হননি, এমন কৌতুহল থেকে আমি তৎকালীন এডিসির কাছে জানতে চাইলাম “শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের” তালিকায় নাম থাকা সত্বেও কাদির মোল্লা কেন গ্রেফতার হননি? আমার প্রশ্নটি শুনে তিনি মৃদ হাসলেন এবং বললেন, আপনার মতো আমারও প্রথমে এমন কৌতুহল ছিল। উত্তর খুঁজতে গিয়ে পরে যা জানতে পারলাম তাতে আমি বিষ্মিত হয়েছি।
তিনি বললেন, এই প্রশ্নটি আমরাও কাদির মোল্লাকে করেছিলাম, তিনি (কাদির মোল্লা) উত্তরে যা বলেছিলেন তা ছিল রীতিমতো ভয়ঙ্কর! আবদুল কাদির মোল্লা বলেছিলেন, “আমিতো টাক্সফোর্সকে টাকা গুনে গুনে দিইনি, আমি টাকা দিয়েছি বস্তায় বস্তায়! তো আমাকে গ্রেফতার করা হবে কেন?”
তাহলে বুঝে নেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীরা “শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের” ধরার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছিলেন। এসব কারণে ১/১১ এর সরকার দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ১/১১ এর কুশীলবদের বিচার এবং তারা কোন কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বস্তায় বস্তায় কী পরিমাণ টাকা লুটে নিয়েছিলেন তা বের করা সময়ের দাবী।
প্রতিবেদক-
মনিরুল ইসলাম, একজন ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট এবং একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।