বিশেষ প্রতিনিধি:
নরসিংদীর সদর উপজেলা চরাঞ্চল আলোকবালিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপির কর্মী ইদন মিয়া (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে প্রায় ১৫ জন। এদের মধ্যে প্রায় তিনজনের বেশি গুলিবিদ্ধ বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আজ (১৮ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার ভোরে আলোকবালিতে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ইদন মিয়া (৬০) আলোকবালি ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের কেনু মিয়ার ছেলে। তিনি বিএনপির কর্মী ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক নোয়াবআলীর সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ আলী গ্রুপের সঙ্গে আলোকবালি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক নোয়াবআলীর দ্বন্দ্ব চলছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের পর আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
আরো জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে আসাদ আলীর সমর্থকরা পুনরায় গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করে। ওই সময় বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের লক্ষ্যে করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে বিএনপির কর্মী ইদন মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। আহত হন প্রায় ১৫ জন। তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।
অপরদিকে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় সদর হাসপাতালে সকাল প্রায় সাড়ে দশটার দিকে যমুনা টিভির সাংবাদিকের উপর হামলা চালায় নিহতের স্বজনরা। এই সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আরও কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। পরে বিভিন্ন সাংবাদিক ও হাসপাতালের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ এমদাদ হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি রিসিভ করেননি।