আন্তর্জাতিক ডেস্ক|জনতার দেশঃ
নেপালের মধ্যপ্রদেশের গোরখা জেলার বুধি গন্ডকি নদীর তীর পশ্চিমে বন্যায় অন্তত এক ডজন ঘরবাড়ি এবং চারটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গোরখা জেলার বুধি গণ্ডকী নদীর তীরে উজানে ভূমিধসের কারণে এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। নেপালের সেনাবাহিনী অন্তত৪৯ জনকে উদ্ধার করেছে তবে এখনো ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রায় এক ডজন ঘরবাড়ি, ৪টি সেতুএবং একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক শিবির ও সরঞ্জাম ভেসে গেছে।
গোরকা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নওয়াল পারাসি জেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলে সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
নেপাল তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার কারণ হিসেবে প্রাথমিক তদন্তে একটি হিমবাহ ধসে পড়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে করে হিমালয়ের বরফ দ্রুতে গলে যাওয়ার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ভূমিকম্পের প্রাথমিক খবর পাওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন ভূকম্পনের কারনে ভূমিধস হয়েছিল এবং সেই ভূমিদস্য থেকে বন্যার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় অন্তত ৪৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএস জিএস) পড়ে জানায় হিমবাহ ধসে পরে জানায়, হিমবাহ ধসের পড়ার কারণে এই দুর্যোগ ঘটে, যেখানে কোন হিমবাহ বা হিমবাহের একটি অংশ ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ইউএসজিএস এর তথ্য এবং ঘটনাটি বিশ্লেষণ করা বিজ্ঞানীদের মতে, ধসে পড়া উপত্যকার তলদেশেআঘাত হানার সময় এতটাই শক্তিশালী অভিঘাত তৈরি হয়েছিল যে, সেটি ৫.২ মাত্রার ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়।
ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সাইমন কুক বিবিসিকে বলেন, তার দলের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে নেপালে লাংটান লিরুং শৃঙ্গের কাছে একটি হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়েছে। এই স্থানটি বর্ণনা কবলিত এলাকা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার (৯) মাইল পশ্চিমে।তার ধারণা হিমবাহটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধসে পড়ে, আর তারপর পানির স্রোতের সঙ্গে নিচে পশ্চিমের দিকে নেমে আসে।
এর আগে আন্ত: সরকারি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট — আইসিআইএমওডি’র এক বিশ্লেষণে জানিয়েছিল, ‘অনেক উপরের কোন এলাকা থেকে বরফ পাথরের ধস’ নেমে নেপালে উদ্ভুত বন্যার কারণ।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সায়েন্সের অধ্যাপক মার্ক সাইল বলেন, হিমালয়ের অন্যান্য এলাকার মত লাংটাং লিরুংও দীর্ঘ মিয়াদি টেকনোনিক গতিবিধির কারণে ধীরে ধীরে উপরে উঠছে। এ প্রক্রিয়ায় একটি ভূত্বীয় প্লেট আরেকটি প্লেট কে উপরে ঠেলে দেয়। বন্যার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, একদিকে হিমালয়ের ভূত্বীয় গতিবিধির কারণে পর্বত শ্রেণীর উপরে উঠে যাওয়া, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং হিমবাহ গলে যাওয়া।
এর ফলে আরো বেশি ভূমিধস, ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ, হিমবাহের গলিত পানি, হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদের পানি উপচে পড়া এবং হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা অনবরত ঘটতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত জলবায়ুর উষ্ণতা উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলোর পরিবেশকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে।
তথ্যসূত্রঃ
# বিবিসি
#অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট
#যুক্ত রাষ্ট্রের ভূ তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)
#সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)
ছবিঃ
# সংগৃহিত