• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
Headline
ফুলবাড়ী ছোট যমুনা নদীর উপর নির্মিত ব্রীজটি সংস্কার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! বিক্রয় প্রতিনিধিদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবী! ফুলবাড়ীতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু রেখে লোকসানে কৃষক-ব্যবসায়ীরা কেজিতে খরচ ১৯–২০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়! দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু, ছেলে আহত! টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ! সম্প্রতি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নাভি পিল্লাই হাসিনার দুঃশাসন নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব ছিলেন! কর্ম সংস্হানের উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার আগে প্রতিটি নাগরিক কে বাংলাদেশ সহ গন্তব্য দেশের অভিবাসন আইন সম্পর্কে জানা অতীব জরুরি! OTP ও PIN নিজের কাছে রাখুন’—সাইবার প্রতারণা নিয়ে নওগাঁ পুলিশ সুপারের সতর্কবার্তা! মাদারীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২!

ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু রেখে লোকসানে কৃষক-ব্যবসায়ীরা কেজিতে খরচ ১৯–২০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়!

Reporter Name
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

 

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁওপ্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বরং হিমাগার ভাড়া, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন ও সংরক্ষণ-পরবর্তী খরচ দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগারে মজুত আলু বিক্রি করতে না পেরে বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দাম বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় অনেকেই আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক আরমান হোসেন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় পরে দাম বাড়ার আশায় তিনি হিমাগারে আলু রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন, দাম বাড়লে সংরক্ষণের খরচ উঠে কিছুটা লাভ হবে। কিন্তু হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। এখন সেই আলু ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তাকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলেন, গত দুই-তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে তার পুঁজি হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। আলুর দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বাজারে আসার কথা থাকলেও চাহিদা কম থাকায় বিক্রি হচ্ছে ধীরগতিতে। তার দাবি, এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে মজুত রয়েছে। দ্রুত এসব আলু বাজারজাত করা না গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।

জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু বের হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

শাহী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম কম থাকায় হিমাগার মালিকেরাও চিন্তিত। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের ওপরও। শ্রমিকেরা জানান, হিমাগারে আলু ওঠানো-নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে। ফলে আলুর বাজারে মন্দার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষও আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি করা গেলে হিমাগারে মজুত আলু বিক্রির সুযোগ বাড়বে। এতে বাজারে আলুর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও

০১৭৪০৮৬১০৮০


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category