• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline
নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু! বাংলাদেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ভোট দিয়ে আনে নাই, ট্রাম্পের ভোটে সরকার এসেছে –অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ! নরসিংদীর ভরতের কান্দিতে পুত্রের হাতে পিতা খুন প্রকৃত খুনিকে গ্রেফতারে কৃতিত্বের সনদ পেলেন এএসআই আরিফুর রহমান! বুড়িচংয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক-২! ডিমলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহ শুরু, তথ্য নেওয়া হবে ৭৭ হাজার পরিবারের! সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলের প্রস্তাবকে বিএমএসএফের সমর্থন! গোপালগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন! মধ্য প্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বৈশ্বিক সংকট সহ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বাজারে অর্থনৈতিক ধ্বস! দাউদকান্দিতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৭ মদনে বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে চার ক্লাবের উদ্বোধন শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন উদ্যোগ!

গুম-খুনের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে —-রাষ্ট্র পতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর!

Reporter Name
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি বলেন, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোন ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
গতকাল রোববার সকাল ১১:০০ টায় ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ ‘উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সকল পথ  রোধ করা হবে। আরেকটা পবিত্র দায়িত্ব গুমের শিকার পরিবার গুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর কোন মাকে তার সন্তানের জন্য, কোন স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।

তিনি বলেন বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গোপন বন্দিশালা ‘আয়না ঘর’ এর দু:সহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন, অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখন তাদেরকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম-খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বশংবদ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন ‘গুম’শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় হাসি, শান্তি, স্বপ্ন  অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বস্তি।এটা এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকটিকে একসঙ্গে ভূলুন্ঠিত করা হয়েছে।
দেশে গুম- খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল সেটিকে রাষ্ট্রপতি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক অপমানজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম, চৌধুরী আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার আরমান, অব. লে. জেনারেল আজমী অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের স্মরণ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম- খুনের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
এ সময় তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে যাদের অনেকে গুম খুনের শিকার হয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না।
এ সময় তিনি গুমের স্বীকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সাথে তিনি ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা ‘সানজিদা ইসলাম তুলির’ কথা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইন শৃঙ্খলা থাকবে কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার উপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।
তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী কতটা ন্যায় ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করে রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন সাফল্য চিত্র তুলে ধরে এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।।
রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, আইনবিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাসমূহের যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category