স্টাফ রিপোর্টার| জনতার দেশঃ
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রী: সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সনদ প্রদান, ভুয়া সাংবাদিক শনাক্তকরণ, সাংবাদিকতার নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমের পেশাগত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রস্তাবিত সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর সংস্কার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন আগে প্রেস কাউন্সিলকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এরপর সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, পেশার মর্যাদা রক্ষা, অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রয়োজন। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিভিন্ন দৈনিকে ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সনদ প্রদান, সংবাদ প্রকাশের কারণে আর্থিক জরিমানা, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম তদারকি এবং সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবগুলো এখনো আলোচনার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
বিএমএসএফ মনে করে, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, চাঁদাবাজি, প্রতারণা কিংবা সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কাজে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিবন্ধনব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয়, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংগঠনটি মনে করে, সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে অবদান এবং সাংবাদিকতার বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকেরা যেন অতিরিক্ত বা বৈষম্যমূলক শর্তের কারণে পেশাগত স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএমএসএফের মতে, প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ প্রকাশের কারণে আর্থিক জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হলে তার সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি, অভিযোগ যাচাইয়ের নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যেতে পারে।
সংগঠনটি আরও মনে করে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত-বিচারের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় প্রস্তাবিত আইনি সহায়তা সেল ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
বিএমএসএফ মনে করে, সংবাদপত্রের সম্পাদক নিয়োগ, সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র প্রদান এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা হলে সাংবাদিকদের পেশাগত অনিশ্চয়তা কমবে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের অধিকার ও শ্রম আইনের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে প্রেস কাউন্সিল পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করা উচিত। ১৯৭৪ সালে প্রেস কাউন্সিল গঠনের পর থেকে নামকাওয়াস্তে পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়। যা সাংবাদিকদের কোনো কাজে আসে না। পক্ষান্তরে আইনজীবীদের জন্য গঠিত বার কাউন্সিল একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে ভূমিকা পালন করছে।
সংগঠনটির মতে, প্রেস কাউন্সিলের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক, প্রকাশক, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ এবং মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করা প্রয়োজন। এতে বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন সহজ হবে।
বিএমএসএফের অবস্থান হলো সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন; তবে সেই সংস্কার কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত করার হাতিয়ার হতে পারবে না। বরং প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার মধ্য দিয়েই প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও জনআস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।