২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩ টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট উপজেলার বক্তপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্কুর মোহাম্মদের বাড়িতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শাহ জাহান দীর্ঘ ৩০ বছর কুয়েতে কঠোর পরিশ্রম করে সম্প্রতি দেশে ফিরেছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী কামরুন নাহার জুমুর (৪১), ছেলে শাহরিয়ার জাহান আতিক (১৯) এবং মেয়ে শাহরিয়া জাহান আরিফাকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহ জাহান প্রবাসে থাকাকালীন তার উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি দ্বিতল ভবনসহ একাধিক সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন।
সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি নিজের চিকিৎসার খরচ ও ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা চাইলে কামরুন নাহার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া শাহ জাহান তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিয়মিত ভরণপোষণ করতেন, যা নিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই কলহের জেরে তারা একই ভবনের পৃথক কক্ষে বসবাস করতেন।
ঘটনার রাতে স্ত্রী কামরুন নাহার পরিকল্পিতভাবে শাহ জাহানের কক্ষের দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পাশে শুয়ে থাকার পর, মশার কয়েল জ্বালানোর কথা বলে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান এবং ছেলে ও মেয়েকে সাথে নিয়ে পুনরায় ফিরে আসেন। এরপর তাদের মধ্যে মেয়ে তার বাবা শাহ জাহানের হাত-পা চেপে ধরেন এবং স্ত্রী বুকের ওপর উঠে গলা টিপে ধরেন। এ সময় ছেলে আতিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে কক্ষ ত্যাগ করলে শাহ জাহান কোনোমতে বাথরুমে গিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের ফোন করে প্রাণভিক্ষা চান। এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাজিরহাট এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
ছবি:
সংগৃহীত।