স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর পল্লবীতে দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যায় জড়িত ২ শুটার কে গ্রেফতার করেছে rab-৪ এর একটি আভিযানিক দল।
তাদের মধ্যে রাশেদ ওরফে লুপনকে রূপনগরের হাউজিং এবং জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লুকে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলভার ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর rab-৪ চার কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।এতে ব্যাটালিয়নের কম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর পরই র্যাব -৪ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও ফুটেজ ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তবে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শুটাররা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। এক পর্যায়ে rab গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে পলাতা শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ত্যাগ করার জন্য ঢাকায় এসে কাগজপত্র তৈরি করেছে। এরপর rab-৪এর একটি দল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে rab এর এই কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
গ্রেপ্তার দুজন কিলিং মিশনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি কমান্ডার বলেন, সার্বিকভাবে দেখা যায় এই কিলিং মিশনে ছয় থেকে সাতজন জড়িত ছিল। প্রাথমিকভাবে আসামিদের স্বীকারোক্তি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের কাছ থেকে আমরা যে ডিভাইস গুলো পেয়েছি সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায় মিরপুরের মশিউর রহমান মসির সঙ্গে আসামিদের যোগাযোগ ছিল। গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতেও খুব উজ্জ্বল ছিল। তিনি হয়তো পরবর্তী সময় পল্লবী থানা বিএনপিতে বড় কোন পদে যেতে পারতেন। মসি যে জুট ব্যবসা চাঁদাবাজি হাউজিং ব্যবসা ডেভেলপার ব্যবসা এবং ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতো তাতে কিবরিয়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে কিবরিয়াকে তারা সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
মূলত: একচ্ছত্র দখল দারিত্ব এবং চাঁদাবাজির সকল নেটওয়ার্ক নিজেদের কব্জায় নিতে এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ড বলে জানা গেছে।