শিরোনাম :
আমেরিকা-ইসরাইলী আগ্রাসনে নিহত মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতা গণ এর তালিকা। সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নতুন আইজিপির জিরো টলারেন্স নীতি। বিখ্যাত গিটারিস্ট কাজী অনিরুদ্ধ এবং কিছু স্মৃতিচারণ। ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি ‘মাদক সম্রাট’ জসিম গ্রেপ্তার। নরসিংদীতে আলোচিত মিজান মিয়া ওরফে হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার। সেহরির পরপরই সং/ঘ/র্ষে জড়ালো দুই গ্রুপ, বাবা ছেলেসহ প্রাণ গেল ৪ জনের। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যাপ্টেন এহতেশাম এবং তার চলচ্চিত্র জীবন। বিখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এর অজানা তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের শিক্ষাগত যোগ্যতা। মন্ত্রী পরিবারের সন্তান এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারালেন।
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

সব ধোঁয়াশা কাটিয়ে সামনে এল হাদি খুনের রোমহর্ষক কাহিনী।

Reporter Name / ১৫১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

জেকব মিল্টন:

হাদি হত্যার ঘটনা নিয়ে বর্তমানে যা ঘটছে, তাতে ৫টি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে (১) প্রশাসনের একটি অংশ (ডঃ ইউনুস) হাদি হত্যার বিষয়টি আদৌ জানতো না, যেহেতু ডঃ ইউনুস কোন প্রকার ইন্টেলিজেন্স ব্রিফিং পান না; (২) জেঃ ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অন্য অংশটি হাদি’র হত্যাকান্ডের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত; (৩) ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এই অংশের রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিটি ষডযন্ত্রের সাথে বিএনপি সরাসরি জড়িত; (৪) ওয়াকারের সাথে বিএনপি’র পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, গোরখোদক আব্বাসের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রয়েছে; (৫) হাদি হত্যার সাথে ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশের প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে প্রথম আলো, ডেইলি ষ্টার, আল-জাজিরার গতরখাটা সাংবাদিক সহ আরোও কয়েকজন আওয়ামি সুবিধাভোগী সাংবাদিকদেরকে ব্যবহার করা হয়েছে।

ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অংশটি বিডিআর পিলখানা হত্যাকান্ড তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে ভারত ও সেনাবাহিনীর একটি অংশের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমানিত অভিযোগ; এবং গুম খুনের সাথে জড়িত সেনা অফিসারদেরকে মানবতা বিরোধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হওয়ার পর
নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পরে।ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশ প্রচন্ডভাবে জন-অসন্তোষ সহ জনরোষের মুখোমুখি হয়।

ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশটি হত-বিহ্বলতা কাটিয়ে প্রশাসনের উপর পুনঃনিয়ন্ত্রনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে; তারা “র” এর সহায়তায় ডিজিএফআই, এনএসআই, এএসইউ, সিআইডি ও এসবি’র কিছু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনে একটি নিখুঁত পরিকল্পনা গ্রহন করে।

ওয়াকারের অংশটি ছাত্রজনতার বিপ্লবী অংশটির উপর চরম আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়; যেহেতু তারাই দেশের অস্তিত্বের সার্থ্য
রক্ষায় বদ্ধপরিকর; এবং ডঃ ইউনুসের সমর্থন তাদের প্রতি! অনেক সুযোগ, সুবিধা ও লোভ এমনকি ভয় দেখিয়েও ডঃ ইউনুসকে ভারত ও ওয়াকারের অংশের সাথে মেলানো যায়নি।

ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশটি এনসিপি নেতাদেরকে পাশ কাটিয়ে টার্গেট করেছিল ভিপি নুরকে; যেহেতু ডিপ্লোম্যাটিক মিশনের কাছে ভিপি নুর এর গ্রহনযোগ্যতা এখন খুব একটা নেই। সুতরাং ভিপি নুরকে একটা চরম ধোলাই দিলে এমনকি নুর যদি মারা ও যায়, সেটা থেকে এনসিপি সহ ছাত্রজনতার বিপ্লবী অংশটি ভয় পাবে, এবং ডঃ ইউনুসও দুর্বল হয়ে পরবে।

“র” এর পরিকল্পনা মাফিক, দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাসিনা নিয়োজিত ভারতপন্থী অফিসারদের সমন্বয়ের একটি টীম ভিপি নুর এর উপর হামলা চালায়।নুর গুরুতর জখম নিয়েও কোন রকম বেচে গেলেও ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশটির উদ্দেশ্য সফল হয়। এনসিপি ও ছাত্রজনতার বিপ্লবী অংশটি পুরোপুরি ভীত হয়ে পরে! তারা আগের মত বিপ্লবী বক্তব্য দেয়া থেকেও বিরত থাকে।

ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশটি মনে করেছিল যে নিয়ন্ত্রন আবার তাদের হাতে চলে এসেছে।কিন্তু বাঁধ সেধে বসেছেন ডঃ ইউনুস এর সুক্ষ পরিকল্পনা। তিনি ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশটিকে জনগনের সামনে উলঙ্গ করার লক্ষ্যে প্রথমে বিডিআর হত্যা তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিলেন; দ্বীতিয় ধাপে আইসিটি’র মাধ্যমে হাসিনা শেখ ও আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যু দন্ডাদেশ নিশ্চিত করলেন; এবং তৃতীয় ধাপে গুম খুনের সাথে জড়িত সেনা অফিসারদেরকে মানবতা বিরোধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি নিশ্চিত করেন।

ডঃ ইউনুস এর সুক্ষ্ম খেলায় ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অংশটি একেবারেই উলঙ্গ হয়ে পরে।তারা পুনরায় ভারত ও “র” এর স্মরনাপন্ন হয়। এ পর্যায় তারা এনসিপি বা ছাত্রজনতার বিপ্লবী অংশের অনেককেই টার্গেট করা থেকে বিরত থাকে; যেহেতু তারা টের পেয়েছে যে ভিপি নুরকে আক্রমনের পর থেকে বাংলাদেশে “র” ও বাংলাদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকলাপের উপর পশ্চিমা দেশগুলোর এজেন্সীগুলো কড়া নজর রাখছে।

আর তাই, প্রশাসনের ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন অংশ এমন একজনকে টার্গেট করে যে ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সার্থ্যরক্ষাকারীদেরকে টিভি টক শো’তে ও পাবলিক ফোরামে প্রতিনিয়ত উলঙ্গ করে দেয়।তার কথাবার্তায় মনে হয় যে সে বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয় নীল নকসা’র প্রতিটি অংশই তার নখদর্পনে। কিন্তু তার সাথে কোন ডিপ্লোম্যাটিক মিশনের সাথেই কোন সমন্বয় নেই।

আর সেই ব্যক্তিটিই আমাদের হাদি।

“র” ওয়াকারের মাধ্যমে ভারতপন্থী বাংলাদেশী কামলা মিডিয়াগুলোকে পরামর্শ দেয় উস্কানির মাধ্যমে হাদি হত্যার ক্ষেত্র তৈরীর।পরবর্তীতে, ওয়াকারের নির্দেশানুযায়ী প্রথম আলো, ডেইলী ষ্টার, সময় টিভি, একাত্তর সহ বসুন্ধরার মালিকানাধীন সকল মিডিয়া এবং যমুনা টিভি সহ ভারতপন্থীরা ভারতীয় হাইকমিশনে মিলিত হয়।”র” এর সিনিয়র এক কর্মকর্তা একটি ব্রিফিং উপস্থাপন করে; ব্রিফিংএর পর ছিল প্রশ্নত্তোর ও আপ্যায়ন পর্ব; আপ্যায়নের মধ্যে ছিল পানিয় ও খানাপিনা; সাথে ছিল মোটা এনভেলপ।

মিডিয়া কভারেজ এর বিষয়ে, ডিজিএফআই প্রায়ঃশই তাদের বেতনভুক্ত কামলা, যেমন মনির হায়দার, আনিস আলমগীর, আব্দুন নুর তুষার, সাইফুর সাগর, সাহেদ আলম, সহ হাসিনাদের ব্যবহার করে; ঠিক তেমনি নামকাওয়াস্তে আল-জাজিরার ট্যাগধারী জুলকারনাইন সায়ের খান নামক এক কামলাকেও তারা ব্যবহার করে।হাদি’র বিষয়ে ভারত পন্থীদের হয়ে আল-জাজিরার ট্যাগ-সর্বস্ব গতর-খাটা জুলকারনাইন সায়ের খান ও তার পান্ডিত্ব ঝাড়ার সুযোগ নিয়েছে এবং ভারত সেবা’র নামে দু’চার ডলার কামিয়েছে।

পাশাপাশি, বিএনপি’র ভারতপন্থীদেরকে আরোও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে হাদি হত্যা পরিকল্পনায় আব্বাস, মির্জা ফখরুল, সালাহউদ্দিন ও আমির খসরুকেও জড়ানো হয়; এবং এই পরিকল্পনাটি ছিল আব্বাসের জন্য পোয়া-বারো; যেন না চাইতেই বৃষ্টি।

হাদি হত্যা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে খুন করার জন্য আওয়ামি ক্যাডার নির্বাচন করে। খুনি’র সাথে ১৫০ কোটি টাকা ও খুনের পর ভারতে পার করে দেয়ার শর্তে দফারফা হয়।বিএনপি ক্যাডারদের মধ্যে শিবির বা দেশপ্রেমিক কেউ থাকতে পারে বিধায় পরিকল্পনাকারীরা বিএনপি ক্যাডারদেরকে বিশ্বস্ত মনে করেনি।

নির্বাচিত খুনি ছিল মেজর সাদেক এর দ্বারা প্রশিক্ষিত। তাকে নির্দেশ দেয়া হলো হাদি’র নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়ে হাদি’র প্রতিদিনের কর্মসুচী ও সময়সুচী জেনে নিতে।

এত্তো কিছু হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অংশটি এসবের কিছুই জানেনা! কিন্তু কেন?

ডঃ ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন অংশের অধিকাংশরা আখের গোছানোতে ব্যস্ত। দেশ সেবা ও রক্ষা তাদের কাছে চতুর্থ বিষয়। পাশাপাশি, ডঃ ইউনুসের খুব কাছের লোকগুলোও ওয়াকারের নিয়োজিত। সুতরাং ঐসব লোকগুলোর আনুগত্য ইউনুসের চেয়ে ওয়াকারের প্রতি অনেকাংশেই বেশী।

প্রস্তুতি সম্পন্ন! দফারফা মোতাবেক খুনিকে ১৫০ কোটি টাকা দেয়া হলো এবং পুরো টাকাটাই আব্বাসের দেয়া; এবং যথাসময়ে হাদি’কে শ্যুট করা হলো।

“র” এবং দেশী গোয়েন্দা সংস্থার ভারতপন্থীরা খুনি’র ব্যাপারে দু’টো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; ভারতের সম্মতি থাকলে খুনি’কে সীমান্ত পার করে দেয়া; নতুবা, ইলিয়াস আলী’র পন্থায় তাকে গায়েব করে দেয়া।যেহেতু খুনিকে বাচিয়ে রাখা পরিকল্পনাকারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন।

শ্যুট্ করার পর হাদি’কে হাসপাতালে নেয়ার সাথেসাথেই ডাক্তাররা বুঝতে পারে যে হাদিকে টেকানো যাবে না। ডঃ ইউনুস শেষ চেষ্টা করলেন তাকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনের।

হাদিকে টেকানো গেলো না।

দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতার বিপ্লবী অংশ যারা মনে করে যে ওয়াকারের নেতৃত্বাধীন ভারতপন্থী প্রশাসনের অংশ ও বিএনপি জন্য ২৪ এর বিপ্লব হাতছাড়া হয়েছে, তারা হাদি হত্যাকান্ডটি সামনে রেখে বিপ্লবকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।এনসিপি ও জামায়াত সহ সকল রাজনৈতিক দলগুলো যদি ডঃ ইউনুসকে সামনে রেখে ২৪ এর বিপ্লবকে পুনঃরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয় তবেই হাদি হত্যা সহ সকল হত্যাকান্ডেরই বিচার সম্ভব। অন্যথায় বিচার তো দুরের কথা, দেশের অস্তিত্বটুকুও থাকবে না।

তথ্যসূত্র:

যুক্তরাজ্য প্রবাসি, রাজনৈতিক সমালোচক, জেকব মিল্টনের ভেরিফায়েড পেজ বুক আইডি থেকে সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category