স্টাফ রিপোর্টার :
প্রায় তিন দশকের পুরনো প্রতিষ্ঠান আদ – দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্হ্য
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেন।
লাইসেন্স বাতিল ঘোষণার পরপরই হাসপাতালটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বিবেচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য হাসপাতাল ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে অসংখ্য পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরটির মহাপরিচালক বলেন,শোকজ নোটিশের যে জবাব ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওযায় ‘মেডিকেলপ্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স’অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হলো। তিনি বলেন আইন অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করতে পারবে।
হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথা।মসম্ভব রোগীদের সরিয়ে ফেলতে হবে কারণ লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর আর চিকিৎসা দিতে পারবে না ওই হাসপাতাল।
এর আগে ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ‘পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে’একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয় ঘটিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি,
দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোন ভেন্টিলেশন এর ব্যবস্থা না থাকা, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান বেড়ে যাওয়াই শিশু গুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে রোগীদের দোরগোড়ায় গিয়ে সেবা দেওয়া হবে। প্রতিটি ঘরে আমাদের লোক যাবে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যদি মনে করে হাসপাতালে নিতে হবে তবেই একজন রোগীকে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। ড়এভাবে দেশব্যাপী চিকিৎসা সেবাকে সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পক্ষে তিনি অনড় অবস্থানে।তিনি বলেন, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না । তিনি বলেন, আদ- দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পিছনে ঘুরছে তারপরও আমি তাদের হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।