মো: মাহবুবর রহমান খান:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১৬ তে দাঁড়িয়েছে।রবিবার দুপুরে কারখানাটিতে আগুন লাগে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার ১৩ নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ২ এবং রাজশাহী বাগমারা উপজেলার ১ জন রয়েছেন।পরিচয় সনাক্ত শেষে লাশ গুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে দূতাবাস। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শোক বার্তায় তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোষ্ট থেকে নিহতদের পরিচয় জানা গেছে। সৌদি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ বাংলাদেশি সবার বাড়ি আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন ১. গণ্ডগোহালী গ্রামের মোঃ রুবেল প্রামানিক ( বাবা :সাইদুর রহমান)২.মো: কলিমুদ্দিন (বাবা বজলুর রহমান প্রামানিক) ৩. মোহন ৪.মোহাম্মদ সুমন ( বাবা :গুফফার প্রামানিক) ৫.খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (বাবা মজনু)৬.আবদুল জলিল ( বাবা:সনাক্তের প্রক্রিয়াধীন) উজানপই গ্রামের ৭.ফরিদ ৮.ডুবাই গ্রামের শুভ ও ৯.সুমন ১০.বোয়ালা গ্রামের হৃদয় ১১.নওগাঁ গ্রামের শাহিন১২.সাদনগর গ্রামের সাগর এবং ১৩.একই উপজেলার মিনহাজ।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুজন হলেন ১৪. দিঘিরপাড় গ্রামের শামীমও ১৫.খাজুরা গ্রামের গ্রামের সাব্বির। অপর নিহত ব্যক্তি হলেন ১৬.রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরু গ্রামের শ্যামল।
গতকাল বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক ফেসবুক পোস্টে বলা হয় পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে পরিবারের সম্মতি অনুসারে সকল লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় ওই কারখানার একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, রবিবার দুপুর মানিক দেড়টার দিকে তিনি চুল কাটার জন্য সেলুনে যান। ফিরে এসে দেখেন কারখানায় আগুন জ্বলছে। তিনি জানান বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন ওই কারখানায় মোট ১৭ জন কর্মী কাজ করতেন। ওই দুর্ঘটনায় ১৬ জনই ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে ৮ জন সরাসরি আগুনে পুড়ে এবং অবশিষ্ট 8 জন কালো ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।
মর্মান্তিকে এ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাণহানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।তারা নিহত বাংলাদেশী নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন। এই পরিবার গুলোর অপুরনীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
নওগার মৃত রুবেলের বাবা মোঃ সাইদুর রহমান স্থানীয় ভাষায় বলেন, হামার তো আর দুনিয়ার বুকে কেউ থেইকলোনা বাবা।হামার নাতনি হছে কেবল ১৪ দিন হলে।১৪ দিনের ছল থুয়ে গেলু বা’। তিনি আরো বলেন হামারা গরীব মানুষ। সরকারের কাছে কি চামু?হামার ছলটাকে দয়া করে আমার সামনে যেন পৌঁছায়া দেয় এটাই অনুরোধ।
জানা গেছে, সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ৮ মাস আগে গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে শামীম পাড়ি জমান সৌদি আরবে।১৬ দিন আগে জন্ম নিয়েছে তার একমাত্র কন্যা সন্তান।যার বয়স এখন ১৪ দিন। অনেক আশা ছিল দেশে ফিরে সন্তানের মুখ দেখবেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এখন তারই মুখ দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছে পরিবার।
স্বামীর মৃত্যুতে শোকে পাথর রাজশাহীর শ্যামল উদ্দিনের স্ত্রী রশিদা খাতুন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন তোমার সঙ্গে হামার কালকেই কথা হনু, তুমি বাড়িতে আসবে বললে আর রাতে তোমার মরার খবর পানু —রবিবার সকালে স্বামীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন শ্যামল তার স্ত্রী রসিদাকে জানিয়েছিলেন এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন।
এই ১৬ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধার অকাল মৃত্যুতে কাঁদছে গোটা দেশ ও জাতি।
ছবিঃ সংগৃহিত।
তথ্যসূত্র:
# বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়া।
# বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদক-
সম্পাদক -প্রকাশক,দৈনিক জনতার দেশ।