এহসানুর রহমান খানঃ
আইইউটি থেকে পাশ করা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তিনিই তাহসিফ সাউরির সেই জুনিয়র বন্ধু দ্বীপ, যিনি তাহসিফ’কে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। ছবিটা তাহসিফের বাসার নীচতলার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া।
সাংবাদিকের কাছে ফোনে দেওয়া তার বিবৃতি অনুযায়ী তাহসিফ সাউরি ও দ্বীপ উত্তরার কোনো একটা রেস্টুরেন্টে ডিনার করেন। সেখানে তারা রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ছিলেন। বারোটার দিকে দ্বীপ বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান।
দ্বীপ তাহসিফের ব্যবসায়ী পার্টনার ছিলো, তাদের মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা ছিলো কিনা এমন প্রশ্নে তিনি না সূচক উত্তর দেন। সেই দিন বাসায় ফিরে তিনি তাহসিফ’কে নাকি ফোন করেছিলেন, কিন্তু ফোন সুইচ অফ ছিলো।
তিনি উত্তরার কোনো এক রেস্টুরেন্ট থেকে যদি রাত বারোটায় বের হন তবে মোহাম্মদপুর তার বাসায় যেতে খুব বড় জোর আধা ঘন্টা সময় লাগা উচিৎ। তিনি কোন রেস্টুরেন্টে বসেছিলেন সেই রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তার বাসায় ফেরার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা উচিৎ।
তার বাসায় যদি সিসিটিভি নাও থাকে তবে তার সেল লোকেশন সেই সময়ে কোথায় ছিলো সেইটা দেখলেই বুঝা যাবে তিনি সত্য বলছেন না মিথ্যা কথা বলছেন। তারা যদি উত্তরার কোনো রেস্টুরেন্টে বসে থাকে তবে সেখান থেকে মোহাম্মদপুর যাওয়ার অনেক গুলো রাস্তা।
প্রথমটা বেরি বাঁধ হয়ে মিরপুর -১ হয়ে শ্যামলি দিয়ে মোহাম্মপুর চলে যাওয়া। বেরি বাঁধের পরেই তুরাগ নদ, সেখানেই তাহসিফের লাশ পাওয়া গিয়েছে। দ্বিতীয় রুট উত্তরা থেকে সোজা বিমানবন্দর রোড ধরে রেডিসনের সামনে দিয়ে চলে যাওয়া বিজয় সরনি। সেখান থেকে মোহাম্মদপুর।
তৃতীয় সম্ভাব্য রুট, উত্তরা থেকে বিমানবন্দর রোড হয়ে বিমান বন্দরের পাশ দিয়ে ডাইনে ঢুকে কচুক্ষেতের মধ্য দিয়ে মিরপুর -১০। সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে দিয়ে মোহাম্মদপুর। এই তিন রাস্তার মধ্যে সবচে সম্ভাব্য রাস্তা প্রথমটা।
দ্বীপ রেস্টুরেন্ট থেকে বের হইছে রাত বারোটায়। দেড়টায় তাহসিফের ফোন থেকে তার মায়ের কাছে মেসেজ গেছে যে মা আমি আসতেছি। দ্বীপ বলতেছে সে বাসায় পৌঁছে তাহসিফ’কে জানাতে চাইছিল সে বাসায় পৌঁছেছে, কিন্তু ফোন বন্ধ পায়।
উত্তরা থেকে যে পথেই মোহাম্মদপুর যাক না কেনো রাত বারোটার সময় আধা ঘন্টার বেশি লাগবে না। দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী সাড়ে বারোটায় তাহসিফের ফোন সুইচড অফ হইছে। আর তাহসিফের ফোন থেকে তার মায়ের কাছ থেকে মেসেজ গিয়েছে রাত দেড়টায়। সময় নিয়ে কেমন গোলমাল আছে একটা।
খুনি যদি রেস্টুরেন্টের সামনে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকে তবে সেই রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়ার কথা। দুইজন রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই এক সাথে বের হইছিল, বিদায়ের একটা আনুষ্ঠানিকতা থাকে, সেই ক্ষেত্রে দুইজনের এক সাথের ভিডিও ফুটেজ থাকা উচিৎ।
যদি এক সাথে দুইজন একই দিকে রওনা দেয়, তবে তারা অবশ্যই আরও কিছু সময় এক সাথে ছিলো। সেই ক্ষেত্রে খুনি অবশ্যই একা নয়, তার সাথে আরও মানুষ ছিলো যারা তাকে সেই রেস্টুরেন্ট বা নির্দিষ্ট কোনো জায়গা থেকে অনুসরণ করে হত্যা করছে। অবশ্যই হত্যা করার সময় শ্বাসরোধ করে হত্যা করছে।
হত্যা করা হইছে এমন কোনো জায়গায় যেখানে কোনো মানুষের আনাগোনা ছিলো না, নির্জন। ভিক্টিম রাত বারোটার পর এমন নির্জন জায়গায় একা একা অবশ্যই চলে যাবে না। তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হইছে কোনো না কোনো ভাবে।
এই খুনে আমার প্রথম সন্দেহ আসলে তার কথিত সেই জুনিয়র বন্ধু দ্বীপ। তাকে ভালো মতো তদন্ত করলেই খুনেফ আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। ছবিতে তার মুখ অনেকটা বিমর্ষ, হাসিমাখা মুখ এমন অবশ্যই না।
বি.দ্র.
এটি পাঠকের জন্য উন্মুক্ত পেজ (মুক্ত কলাম) যে কোন বিষয়ে পাঠকের মুক্ত চিন্তা মতামত তুলে ধরা হয়।এহসানুর রহমান খান “দৈনিক জনতার দেশ”পোর্টালের একজন বিদগ্ধ পাঠক।