• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
Headline
শীতকালীন শাক-সব্জিতে বাজার ভরপুর,মূল্য কমছেনা বিন্দু পরিমাণ! চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা! ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মেজর নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর চালানো বর্বরতাকে সহ্য করতে না পেরে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নিজ দেশ পোল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন! সৌদি আরবের হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান! হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে চার তেলবাহী জাহাজে আগুন! ৪ দিনের জাপান সফর শেষে প্রধান মন্ত্রীর দেশে প্রত্যাবর্তন! সাইবার ক্রাইম থেকে নিঃস্কৃতির উপায়! সাজেকে সড়ক অবরোধের অষ্টম দিনেও কাটেনি অচলাবস্থা! শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের ভিডিও ধারণকারী বিমান বাহিনীর (অবসর প্রাপ্ত)কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাউসিফ সাউরির মৃত্যু রহস্যের জট খুলতে যাচ্ছে,মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়া বন্ধু দীপ এখন পুলিশ হেফাজতে! আজকের আবহাওয়া ও অন্যান্য বার্তা!

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা!

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার|জনতার দেশঃ
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রায় ৩১ শতাংশ কম। এদিকে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় তিন মাস ধরে রাজস্ব আদায়–সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি এনবিআর।
এনবিআরের হিসাবে, রাজস্ব আদায়ের প্রধান তিনটি খাত—মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর ও আমদানি-রপ্তানি শুল্ক—কোনোটিতেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ভ্যাট আদায়ে। উল্লিখিত সময়ে মোট রাজস্ব ঘাটতির অর্ধেকই ভ্যাটের।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সভায় চেয়ারম্যান আহসান হাবিব সংস্থাটির কর্মকর্তাদের কর আদায় কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন। সভায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের ব্যবসা–বাণিজ্যের শ্লথগতির কারণে ভ্যাট ও শুল্ক আদায় কম হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার নিয়মের কারণে প্রথম দিকে নিয়মিত ভ্যাট পাওয়া যায়নি। তবে এখন মাসে মাসে রিটার্ন দেওয়ার বিধান করায় ভ্যাট আদায় বাড়বে।’
গত জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৪৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। ফলে ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। শুধু লক্ষ্যমাত্রা নয়, গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়েও ভ্যাট কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
এ ছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকেও রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর। এই খাত থেকে তিন মাসে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ৯ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। আর অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। এতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আদায়ের ঘাটতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ভ্যাটের। তিন মাসে রাজস্ব আদায়ের মোট ঘাটতির প্রায় ৪৮ শতাংশই ছিল ভ্যাটের। আয়কর ও ভ্রমণ কর এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্ক—এ দুই খাতে সম্মিলিত ঘাটতি ছিল প্রায় ২১ হাজার ৮২২ কোটি টাকা।
জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, তিন মাস পরপর রিটার্ন দেওয়ার নিয়ম করার কারণে ভ্যাট আদায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। কারণ, ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে ভ্যাটের হিসাব করেন; কিন্তু নিয়ম বদলের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেনি। ফলে ভ্যাটও পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া ব্যবসা–বাণিজ্যে শ্লথগতির কারণেও ভ্যাট আদায় কমেছে।
এদিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় সামান্য বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছে ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।
সার্বিক রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার তিন কারণ দেখছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, প্রথমত, অর্থনীতির গতি কম। দ্বিতীয়ত, বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। তাই আদায় কম দেখাচ্ছে। তৃতীয়ত, এনবিআরে কিছুটা প্রশাসনিক স্থবিরতা রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে।

সূত্রঃ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ( এন,বি,আর)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category