• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
শীতকালীন শাক-সব্জিতে বাজার ভরপুর,মূল্য কমছেনা বিন্দু পরিমাণ! চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা! ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মেজর নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর চালানো বর্বরতাকে সহ্য করতে না পেরে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নিজ দেশ পোল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন! সৌদি আরবের হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান! হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে চার তেলবাহী জাহাজে আগুন! ৪ দিনের জাপান সফর শেষে প্রধান মন্ত্রীর দেশে প্রত্যাবর্তন! সাইবার ক্রাইম থেকে নিঃস্কৃতির উপায়! সাজেকে সড়ক অবরোধের অষ্টম দিনেও কাটেনি অচলাবস্থা! শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের ভিডিও ধারণকারী বিমান বাহিনীর (অবসর প্রাপ্ত)কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাউসিফ সাউরির মৃত্যু রহস্যের জট খুলতে যাচ্ছে,মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়া বন্ধু দীপ এখন পুলিশ হেফাজতে! আজকের আবহাওয়া ও অন্যান্য বার্তা!

সাজেকে সড়ক অবরোধের অষ্টম দিনেও কাটেনি অচলাবস্থা!

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

♦পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিনিধি|জনতার দেশঃ

সাজেকে সড়ক অবরোধের অষ্টম দিনেও কাটেনি অচলাবস্থা। অবরোধকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও প্রধান দাবি, সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। এতে টানা আট দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ। পর্যটক না আসায় বন্ধ হয়ে আছে পর্যটননির্ভর ব্যবসা, দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট। বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) অবরোধের সপ্তম দিনে সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেন অবরোধকারীরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অষ্টম দিনেও অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা আসেনি।

অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন পর্যটননির্ভর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের আয়রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সবজি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বলেন, ‘সাজেক বন্ধ হলে ইউপিডিএফ-জেএসএসের কিছু যায় আসে না। ক্ষতি হয় আমাদের, স্থানীয় বাসিন্দাদের, ব্যবসায়ীদের। মাছ-মাংসের কথা বাদই দেন, সবজি পর্যন্ত নেই। পর্যটক না এলে আমাদের ব্যবসা হয় না। আয়রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।’

চার দাবিতে সমঝোতা, এক দাবিতে অচলাবস্থাঃ

সাজেকের অচলাবস্থা নিরসনে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অবরোধকারীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। বিকেল ৩টা থেকে পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। অবরোধকারীদের পক্ষে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, জিকু চাকমা, কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নতুন জয় চাকমা ও ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের ঊষাতন চাকমা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে তাঁরা সরকারি প্রতিনিধি দলের কাছে পাঁচ দফা দাবি লিখিতভাবে তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও আলোচনা হবে। শিগগিরই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে ওই বৈঠকের পরও অবরোধ প্রত্যাহার করেননি আন্দোলনকারীরা। সোমবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে বাবুধন চাকমা বলেন, প্রধান দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার নির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেনি। এ দাবি পূরণে সরকার প্রথমে এক মাস সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা তিন দিন সময় দিতে রাজি ছিলেন। পরে সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলে তাঁরা আরও পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে সম্মত হন। কিন্তু প্রধান দাবি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আবার আলোচনায় বসতে চাইলে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ দফায় কি আছে?

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবিও রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্যঃ

সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, সাজেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও রাজনৈতিক-সামাজিক ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাহাড় বা সমতল, যেখানেই হোক, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি তৈরি করা অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না
♦

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category