মাহবুবুর রহমান খান :
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক হবার কোন সুযোগ নেই সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তাদের পাসপোর্ট দেওয়া হলেও তারা দেশের নাগরিক নন। অবৈধ উপায়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট সংগ্রহ রোধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আইনি ও প্রশাসনিক অবস্থানঃ
*মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকেই রোহিঙ্গাদের মূল বাৎসরিক শেকড়এসেছে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
*বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল বারবার পরিষ্কার করেছে যে, পাসপোর্ট বা অন্য কোনভাবে এনআইডি পাওয়া নাগরিকত্ব প্রমাণ করে না।
*ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডি বা পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করলে তা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র (এন আই ডি) এবং পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার পিছনে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত দেশি-বিদেশি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় ভুমিকা রাখছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ তদন্তে এই জালিয়াতি এবং ভুয়া তথ্য প্রদানের ভয়াবহ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে।
যেভাবে ভুয়া তথ্য ও নথি তৈরি করা হয়ঃ
*প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঠিকানা ব্যবহার :সাধারণত নোয়াখালী সিরাজগঞ্জ বা ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার এমন সব প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, যেখানে বসবাসকারী প্রকৃত নাগরিকদের এনআইডি বা জমির তথ্য সংগ্রহ
করে রোহিঙ্গাদের আত্মীয় বা বাবা মা হিসাবে সাজায়।
ইউনিয়ন পরিষদ সিটি কর্পোরেশনের জাল সার্টিফিকেটঃ
স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন,নাগরিকত্ব সনদ এবং চারিত্রিক সনদপত্র তৈরি করে নির্বাচন কমিশন বা পাসপোর্ট অফিসে দাখিল করা হয়।
বিশেষ ভাষা ও সই এর প্রশিক্ষণ :জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বাংলা ভাষা উচ্চারণ করার এবং অন্তত বাংলায় নিজের ভুয়া নামটি সই করার বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ভাইভা দেওয়ার সময় তারা ধরা না পড়ে।
জালিয়াতীর খরচ এবং চক্রের নেটওয়ার্কঃ
তদন্তে দেখা গেছে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্তরে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
জন্ম নিবন্ধন সনদ :৫০০০ থেকে ১২০০০ টাকা যা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ করা হয়।
জাতীয় পরিচয় পত্র NID ঃ ক্ষেত্র ভেদে ২৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা।
পাসপোর্ট তৈরি :১ লাখ টাকা থেকে দেড়লাখ টাকা।
চক্রের মূলহোতা :এই সিন্ডিকেটে রোহিঙ্গা মাঝি অর্থাৎ ক্যাম্প নেতার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় দালাল ইউনিয়ন পরিষদের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং পাসপোর্ট অফিস বা নির্বাচন কমিশনের চুক্তিভিত্তিক কিছু কর্মী জড়িত থাকে।
বর্তমান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
বায়োমেট্রিক ডেটাবেজ ক্রস চেকিং :বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার UNHCR যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের আসল বায়োমেট্রিক ডেটাবেজ এর সাথে বাংলাদেশের এনআইডি এবং পাসপোর্ট সিস্টেমের ডিজিটাল ক্রস চেকিং প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা হয়েছে। যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চাঁদপুর ও সিরাজগঞ্জের পাসপোর্ট অফিস গুলোতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিংয়ে বহু রোহিঙ্গা হাতেনাতে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছে।
আইনি কঠোরতা:জালিয়াতি ধরা পড়লে রোহিঙ্গাদের সরাসরি কারাগারে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের দালাল ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
সতর্কতা:
এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় হচ্ছে কোন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ভিন্ন ভাষা, গোত্রের এমন কাউকে সন্দেহ হলে কিংবা অপরিচিত এমন লোকজনের আনাগোনা পরিলক্ষিত হলে অতি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা।
তথ্য সূত্র
#জাতিসংঘর শরণার্থী সংস্থা UNHCR এর বার্ষিক প্রতিবেদন।
#বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য।
#বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য।
#বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ।
বি.দ্র.
মো: মাহবুবুর রহমান খান
সম্পাদক- প্রকাশক,
দৈনিক জনতার দেশ (অনলাইন পোর্টাল).