ডেস্ক রিপোর্ট | জনতার দেশঃ
গতকাল ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষী ও আজমপুর এলাকায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের এক বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্য সহ ৫০ জন আহত হয়েছেন।
যে কারণে এই ঘটনার সূত্রপাতঃ
শ্রমিকরা বর্তমান উচ্চমূল্য স্ফীতির বাজারে জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে এই আন্দোলন করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সকাল ১০ টার দিকে উত্তরখান ও দক্ষিণ খান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক কসাইবাড়ি, জামতলা ও আজমপুর রেল গেটের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন পরে তারা উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে ১৩ নম্বর সড়কে একত্রিত হয়ে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করলে দু পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা লাঠি সোঁটা ও রেললাইনের পাথর নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। এতে কাজ না হওয়ায় পরে সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও জল কামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।
দু পক্ষের সংঘর্ষে ২০ থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। যার মধ্যে শিল্পপলিশের এক সদস্যের হাত ভেঙে গেছে। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী তাদেরও অন্তত ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আন্দোলনকারীরা শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।
সংঘর্ষের পর পুলিশ মোতায়ন করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে উত্তরা এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা বিমানবন্দর সড়কে জ্যামে আটকা পড়েছিল যানবাহন সহ নিরীহ যাত্রী সাধারণ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের ডিসি রেজাউল করিম জানিয়েছেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের সনাক্ত করা হচ্ছে এবং পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।