রায়পুরা প্রতিনিধি:
নরসিংদীতে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা একটি প্রাইভেটকারের দরজা, লাইটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া ও পরে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
জানাযায়, ২০২৩ সালের একটি মাদক মামলায় ১০ কেজি গাঁজাসহ জব্দ করা ঢাকা মেট্রো-গ-১১-০৮৪০ নম্বরের সাদা রঙের করোলা প্রাইভেটকারটি নরসিংদী সদর মডেল থানায় রাখা হয়। যার মামলা নম্বর ০৪, তারিখ ০২/০৮/২০২৩।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটি থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় তৎকালীন নরসিংদী সদর মডেল থানায় কর্মরত এএসআই ওবায়দুল্লাহ এএসআই লুৎফর রহমানের সহযোগিতায় গাড়িটির দরজা, লাইটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় গাড়িচালক লিটন মিয়ার মাধ্যমে নরসিংদীর চৌয়ালা এলাকার একটি গ্যারেজের মালিক সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
গাড়িচালক লিটন মিয়ার দাবি, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্র ধরে এএসআই ওবায়দুল্লাহ ও লুৎফর রহমান তার কাছে গাড়ি মেরামতের জন্য একজন মেকানিকের সন্ধান চান। পরে তিনি তাদের চৌয়ালার গ্যারেজ মালিক সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।
লিটনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলিমের মাধ্যমে জব্দকৃত গাড়ির দরজাসহ কয়েকটি যন্ত্রাংশ অন্য একটি গাড়িতে সংযোজনের চেষ্টা করা হয়। তবে সেগুলো সঠিকভাবে সংযোজন করা সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তীতে এসব মালামাল অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানান লিটন।
গ্যারেজ মালিক সেলিমও বিষয়ট স্বীকার করেছেন। তার দাবি, দুইজন পুলিশ সদস্য নিজেদের গাড়ি মেরামত করবেন এমন পরিচয়ে একটি গাড়ির দরজাসহ কয়েকটি যন্ত্রাংশ তার মাধ্যমে অন্য একটি গাড়িতে লাগানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে, জব্দকৃত গাড়ির কিছু মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বর্তমানে নরসিংদী সদর মডেল থানার মালখানার দায়িত্বে থাকা এসআই ইসহাক। তিনি জানান, পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় তাকে জানানো হয়েছিল জব্দ করা ওই গাড়ির কিছু মালামাল চুরি হয়েছে। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন নরসিংদী সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা এএসআই ওবায়দুল্লাহ বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর থানায় কর্মরত। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জব্দকৃত গাড়ির মালামাল খুলে নেওয়া ও বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে জানান।
এএসআই লুৎফর রহমান বর্তমানে পলাশ থানায় কর্মরত। তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, জব্দকৃত গাড়ির মালামাল বিক্রির বিষয়ে তাকে অফিসিয়ালি চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তার জবাব দিয়েছেন। তবে গাড়ির মালামাল বিক্রি বা সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ কীভাবে থানা হেফাজত থেকে বের হয়ে অন্য গাড়িতে ব্যবহারের চেষ্টা হলো কিংবা পরে বিক্রি হয়ে গেল?
থানার মালখানায় সংরক্ষিত মামলার আলামতের নিরাপত্তা ও জব্দ তালিকা অনুযায়ী মালামাল অক্ষত থাকার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল?
ভুক্তভোগী, জেলা পুলিশ সুপার (এস,পি)নরসিংদীর নিকট সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ও দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।