সায়েন্স ডেস্ক|জনতার ডেস্কঃ
মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলে নতুন নক্ষত্র জন্ম নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং তার রাসায়নিক গঠন জানতে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন। সম্প্রতি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে নীহারিকার ভেতরের ছবি তুলেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। এসব ছবিতে কসমিক বা মহাজাগতিক কাঠামোর ভেতর নতুন নক্ষত্র জন্মের বিরল প্রক্রিয়া ধরা পড়েছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ‘এন১৫৯’ নামের নক্ষত্র গঠন করা একটি অঞ্চলের সন্ধান পাওয়া গেছে। পৃথিবী থেকে ১ লাখ ৬১ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই অঞ্চলে কমলা রঙের আলো ছড়াচ্ছে। অঞ্চলটি অনেকটা অশান্ত কড়াইয়ের মতো, যেখানে ঘন গ্যাসের পিণ্ডের ভেতর নতুন নক্ষত্র তৈরি হচ্ছে। মিল্কিওয়ে ছায়াপথের উপগ্রহ গ্যালাক্সির একটি হলো লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড বা এলএমসি। এই এলএমসি গ্যালাক্সির প্রায় ২৩০ আলোকবর্ষ এলাকাজুড়ে এন১৫৯ অঞ্চলটি বিস্তৃত রয়েছে।
এন১৫৯ হলো এমন একধরনের স্থান, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘এইচ ২’ অঞ্চল বলে অভিহিত করেন। এটি মূলত আয়নাইজড হাইড্রোজেন গ্যাসে পরিপূর্ণ একটি মহাশূন্য এলাকা। নাসা জানিয়েছে, ছবির রংগুলো অত্যন্ত চমৎকার। কারণ, এগুলো অঞ্চলের রাসায়নিক গঠন প্রকাশ করে। হালকা কমলা রংটি পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন নামক কার্বনভিত্তিক অণু দ্বারা নির্গত আলোকে নির্দেশ করে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ছবির কেন্দ্রীয় অংশে থাকা গাঢ় লাল রঙের তন্তু শীতল আণবিক হাইড্রোজেন দিয়ে তৈরি। এই তন্তু নীহারিকার সবচেয়ে ঘন অংশ এবং এগুলো নতুন নক্ষত্রগুলোকে কঠোর বিকিরণ ও নক্ষত্র বায়ু থেকে রক্ষা করে। টেলিস্কোপে ধরা পড়া এই অদ্ভুত ও সুন্দর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে
তথ্য: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।