• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
Headline
শ্রমিক আন্দোলনে মিরপুরে যান চলাচল ব্যাহত! আমরা জনগণের অধিকার আদায় করেই ছাড়বো: শফিকুর রহমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা! নক্ষত্র তৈরির বিরল প্রক্রিয়া এবার ধরে পড়লো জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে! আর্জেন্টিনা মেসির স্মৃতিবিজড়িত মাঠে খেলতে নারাজ! ব্যালন ডি’অরের হিসাব -নিকাশঃ কে কত পয়েন্ট অর্জন করলো?২৮ পয়েন্ট ব্যবধানে এমবাপ্পে কে হারালো কেইন! গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চোরকে ছেড়ে দিয়ে অপর ব্যক্তিকে মারপিটের ঘটনায় নিহত-১! সরকার পাট শিল্প কে পুনরুজ্জীবিত করতে ২৩২০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব! শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম আগামীকাল (রোববার) থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী! জীবনযাত্রার ব্যয়, গণসেবা ও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের ওপর ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ দেশব্যাপী বিক্ষোভে ফ্রান্সে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা!

Reporter Name
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

সায়েন্স ডেস্ক |জনতার দেশঃ

বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ১৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তখন এ খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রতি ঘণ্টায় ২৮৭ টেরাওয়াট বা ২৮ কোটি ৭০ লক্ষ মেগাওয়াট; যা ২০২২ সালে স্পেনের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়েও এই পরিমাণ বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জার্মানিভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা বিয়ন্ড ফসিল ফুয়েলস (বিএফএফ)। সংগঠনটির মতে, এআই-কে জলবায়ু সংকটের সমাধান হিসেবে তুলে ধরার আগে এর পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ জলবায়ু কার্যক্রম এবং বিদ্যুতায়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তবে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি থাকলেও বিষয়টির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

বিএফএফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের জলবায়ু সুফল নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবির ৭৩ শতাংশের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় গুগল, মাইক্রোসফট এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ১৭২টি বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়। এসব বক্তব্যে দাবি করা হয়েছিল, এআই জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২৭ শতাংশ দাবির সঙ্গে প্রকাশিত একাডেমিক গবেষণার সূত্র ছিল। আর ৩৭ শতাংশ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণই উল্লেখ করা হয়নি।
গবেষণায় চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও কোপাইলটের মতো ভোক্তাপর্যায়ের জেনারেটিভ এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ও যাচাইযোগ্য মাত্রায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর কোনো উদাহরণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিএফএফ। সংগঠনটির মতে, এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরার সময় প্রযুক্তিটির বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা ও পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।

বিএফএফের এক গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউরোপে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬০ শতাংশ বাড়তে পারে। তখন এ খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা দাঁড়াতে পারে ২৮৭ টেরাওয়াট প্রতি ঘণ্টায়। ২০২২ সালে স্পেনের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়েও এই পরিমাণ বেশি।
সংগঠনটির আশঙ্কা, নতুন ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা যদি মূলত জীবাশ্ম গ্যাস দিয়ে পূরণ করা হয়, তাহলে জলবায়ুর ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন যুক্ত হওয়া ডেটা সেন্টারগুলোর বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ ২০৩০ সালে ৩ কোটি ৯০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডে পৌঁছাতে পারে। বিএফএফের হিসাবে, এই পরিমাণ লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়ার ২০২২ সালের সম্মিলিত বার্ষিক নিঃসরণের চেয়েও বেশি।
বিএফএফ বলছে, ডেটা সেন্টারের বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে পূরণ করা প্রয়োজন। তবে নতুন ডেটা সেন্টারগুলো যদি অন্য খাতের জন্য পরিকল্পিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাহলে পরিবহন, শিল্প ও ভবন খাতের কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুতের দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। এ ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরেছে বিএফএফ। সংগঠনটির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি থেকে ৭১৫ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় হয়েছে।
বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের মোট বিদ্যুতের ২২ শতাংশের বেশি ব্যবহার করে ডেটা সেন্টারগুলো। সংগঠনটির দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের জ্বালানি সংকটের সময় দেশটির দরিদ্র পরিবারগুলো অতিরিক্ত ২০৯ ইউরো বিদ্যুৎ ব্যয় বহন করেছে।
বিএফএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের চাহিদা সীমিত রাখা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো গেলে ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের পরিবারগুলো আনুমানিক ৪৩৫ ইউরো সাশ্রয় করতে পারে। এমনকি এ সময়ে আরেকটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও এই সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে অগ্রাধিকার চায় পরিবেশবাদীরা
বিএফএফ কপ৩১ সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট চূড়ান্ত জ্বালানি চাহিদার ৩৫ শতাংশ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যমাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংগঠনটির মতে, বিদ্যুতায়ন তখনই জলবায়ু সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, যখন তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাবে।
সংগঠনটি বলছে, পরিবহন, ভবন ও শিল্প খাতের বিদ্যুতায়নকে ডেটা সেন্টারের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ, ডেটা সেন্টারের বাড়তি চাহিদা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি করছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পরিবহন খাতের বিদ্যুতায়ন বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইউরোপের পাঁচটি দেশে পরিচালিত এক জনমত জরিপের তথ্যও তুলে ধরেছে বিএফএফ। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, নতুন ডেটা সেন্টার কেবল নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পরিচালিত হলেই নির্মাণ করা উচিত। আর ৭৩ শতাংশের মত, বিদ্যুৎ কীভাবে বিভিন্ন খাতে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
বিএফএফের মতে, নতুন এআই অবকাঠামোর জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করা, অতিরিক্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের সময় ডেটা সেন্টারের চেয়ে সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সংগঠনটির বক্তব্য, এআইকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হলে শুধু অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়। ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বাধ্যতামূলক নীতিমালা প্রয়োজন। অন্যথায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুফলের আড়ালে বাড়তে পারে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ।
তথ্যঋণঃ

# ঢাকা পোস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category