ফাতেমাতুজ্জোহরা:
চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবানাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, “আপনার সন্তানেরা কে কী করছেন?”
উনি উত্তরে জানান, সুমী ইকবাল এমবিএ, সিপিএ করেছে। তবে এখন পুরোদস্তুর গৃহিণী। ছোট মেয়ে উর্মি সাদিক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছে। আর ছেলে নাহিন সাদিক রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষে ব্লুমবার্গে চাকরি করছে।
তবে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, নিজের ছেলে-মেয়েদেরকে পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান আর আধুনিক পরিবেশে গড়ে তোলা হলেও দেশে গড়ে তোলা হয় মাদ্রাসা। নিজে চলচ্চিত্র জগত থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করবে, আর পরে সেই অর্থ দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করে সামাজিক ধার্মিকতার ইমেজও তৈরি করবে।
আরো মজার বিষয় হচ্ছে, বহুবার অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তার সিনেমা আর টিভিতে প্রচার না করা হয়। অথচ সেই তিনিই আবার ২০১৫ সালে শেখ হাসিনার হাত থেকে চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করেছেন সাদরে।
শুধু শাবানাই নন, উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ও মিডিয়া অঙ্গনের অনেকের মাঝেই এই দ্বৈততা দেখা যায়। একদিকে ধর্মে বিতর্কিত বা হারাম হিসেবে বিবেচিত কাজের সাথে যুক্ত থাকা, অন্যদিকে জীবনের একটা পর্যায়ে এসে হঠাৎ ধর্মীয় ভাবমূর্তি নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়া। কেউ মসজিদ বানায়, কেউ মাদ্রাসা, কেউ টুপি পরে, কেউ বোরকা, কেউ হজ্জে যায়।
অভিনেতা আহমেদ শরীফ কুষ্টিয়ায় মসজিদ নির্মাণ করেছেন। মিসা সওদাগরকে প্রায়ই টুপি পরে দেখা যায়। বিদ্যা সিনহা মিম ভিন্ন ধর্মের হয়েও ইসলামি আবহে কোরবানি করছেন। অনন্ত জলিল-বর্ষা নিয়মিত হজ্জ করেন। আবার মাঝেমধ্যে খবর আসে, অমুক নায়িকা “ধর্মের পথে” ফিরে গেছেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাকেই আবার টিভির পর্দায় দেখা যায় আগের মতই।নায়ক রাজ্জাক,এটিএম শামসুজ্জামান, ইলিয়াস কাঞ্চন তারা হ্জ্জ করেও সিনেমাতে সচল ছিলেন। তাদের মুখে মুখেই ধর্ম বাস্তব চিত্র চরম বিপরীত।
এই কারণেই অনেকের কাছে মনে হয়, বিনোদন জগতের ধর্মচর্চা অনেক সময় বাস্তব আত্মসমালোচনার চেয়ে ইমেজ ব্যবস্থাপনাই বেশি।
বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার সাথেও এর অদ্ভুত মিল আছে। একদিকে দুর্নীতি, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার; অন্যদিকে হজ্জ, দান-সদকা, ধর্মীয় ভাষণ। যেন দুই দিকেই অভিনয় চলছে সমানতালে।
পাকিস্তানি নাটক-সিরিয়ালে যেমন কথায় কথায় “আলহামদুলিল্লাহ”, “মাশাআল্লাহ”, “মারহাবা” শোনা যায়, এখন বাংলা নাটক-সিনেমাতেও তার ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। আর সেই কনটেন্টের ভিউও হচ্ছে বিপুল।
প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্ম কি সত্যিই আত্মশুদ্ধির জায়গা, নাকি অনেকের কাছে সেটা এখন সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আর ভাবমূর্তি রক্ষার হাতিয়ার?
সমালোচনা ধর্মের বিরুদ্ধে না, ভণ্ডামির বিরুদ্ধে।
# কপি সংগৃহিত।
ছবি: # উইকিপিডিয়া।