• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline
বিএনপিকে হেয় করতেই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে জামায়াতঃ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম! মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগ ফরহাদের বিরুদ্ধে; রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইসহ তদন্তের দাবি! টেকনাফে গুজব প্রতিরোধে তরুণদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি! দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি! কক্সবাজারে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার! আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই শতভাগ যুবকদেরকে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়তে চাইঃ-  যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক! ভারতের সহকর্মীর গুলিতে আধা সামরিক বাহিনীর ৪ সদস্য নিহত! নিউ ইয়র্ক টাইমসের নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার দায়ে শ্বশুর-শাশুড়ি কে গ্রেফতার! ২ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে স্হায়ী ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত! বাংলাদেশ বিমান এয়ার লাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন ১০ টি এয়ারবাস (উড়োজাহাজ)!

” আই এ্যাম সিক,সো ইট ইজ ডান”পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ।

Reporter Name
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

  • ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক জনতারদেশ :
    সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই স্বাস্হ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
    শুক্রবার বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে bdnews24.com কে তিনি বলেন,” আই এম সিক, সো ইট ইস ডান”।
    এর ঘন্টাখানেক পর জাতীয় সংসদ ভবনের সংবাদ সম্মেলন এসে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এর পদত্যাগ পত্র পেয়েছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
    আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালে ৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন ওই পরবর্তী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি যাকে মেয়াদ পূর্তির আগেই ইস্তফা দিতে হলো।
    বঙ্গভবনে ৩৯ মাসের দায়িত্বে সাহাবুদ্দিন দুটি জাতীয় নির্বাচন দেখেছেন ৩ জন সরকার প্রধানকে শপথ করিয়েছেন। এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতারচ্যুত হয়ে একজন সরকার প্রধানের দেশান্তরী হওয়ার সাক্ষী হয়েছেন।
    গত সাড়ে তিন দশকে আর কোন রাষ্ট্রপ্রধানকে বিরূপ  পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়নি।
  • *পদত্যাগ পত্রে যা লিখেছেন শাহাবুদ্দিন *
  • রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ পত্রের একটি অনলিপি সংবাদ মাধ্যমে সরবরাহ করেছে বঙ্গভবন। সেখানে তিনি অসুস্থতাকেই  ইস্তফা দেওয়ার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
    সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর তার  ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই সাংবিধানিক
    বিপর্যয় এড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

*বিষয় রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ*

  • আমি মোঃ শাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১২ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে২০২৩ খ্রিস্টাব্দ সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অধ্যাবধি ন্যায়-নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আগস্ট ২০২৪ সনের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণে সংবিধানের  ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসাবে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অত:পর  অন্তর্বর্তী কালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে।
    নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সু দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
    আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্হ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের মানসিক অসামর্থতার  কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।
    এমতাবস্তায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
    মো.সাহাবুদ্দিন
    রাষ্ট্রপতি
    ২৪/৭/২০২৬
    *ঝঞ্ঝা মুখর ৩৯ মাস *
    রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ২০২৩ সালে অবসরে  যাওয়ার সময় তার উত্তরসূরী হিসেবে আওয়ামী লীগ যখন মোঃ সাহাবুদ্দীনকে মনোনয়ন দেয় জামায়াত- এনসিপি ক্ষোভ প্রকাশ  করেছিলেন। কারণ তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনের সামনের সারির এমন কেউ ছিলেন না।
    তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাবনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসনের সময় রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দিও হন।
    পরে আইন পেশায় যোগ দেন।  বিচার বিভাগে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে অবসর নেওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন।
    তখন দেশের মানুষ তাকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নামে চিনতো। ওই নামে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার নামের সঙ্গে ডাক নামের অংশটি ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।
    রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোঃ সাহাবুদ্দিন ছিলেন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক।রাষ্ট্রের কার্য নির্বাহী ক্ষমতা তাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।
    ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল মোঃ সাহাবুদ্দিনের প্রথম বড় রাজনৈতিক ঘটনা। ১১ই জানুয়ারি তার কাছেই শপথ নেন টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার ১৬  মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন মোঃ সাহাবুদ্দিন। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে সরকারের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে।
    হাসিনা আমলের কোন কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও অনির্বায পরিণতির মত বঙ্গভবন থেকে যান মোঃ সাহাবুদ্দিন। তাকেই সংসদ বিলুপ্ত করার আদেশ দিতে হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি মোঃ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারকে শপথ পড়ান।অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে অধ্যাদেশে পরিণত করতে তাকেই আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়।
    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন,  শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন।
    কিন্তু ওই বছরের ১৯ অক্টোবর  গণ মাধ্যম কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোন দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই” ।
    এ  নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ২০২৫  সালের অক্টোবরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সহ বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে বঙ্গভবনের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।
    তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরীর আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আর সে পথে যায়নি।
    তবে সব মিলিয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছিল রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে থাকা সাহাবুদ্দিনের। নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্স কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে  তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পরে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
    রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, আমি বিদায় নিতে আগ্রহী আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।
    সেদিন bdnews24.com এর পক্ষ থেকে সরাসরি যোগাযোগ করে কখন পদত্যাগ করতে চান জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, নতুন সরকার এলে  নতুন সরকার বললে অনুরোধ করলে তবেই।
    কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন? সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল “আমার ভালো লাগেনা”।
    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা বিদেশী মিশন গুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের ফ্রেস উইং সংকুচিত করায় অপমান বোধ করার কথা ও পরে বলেছিলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন।
    গত ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রিরা  শপথ নেন। তখনকার পরিস্থিতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের জন্য অনেকটা সহনীয় হয়ে আসে।
    নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারির রাতে সংবাদ মাধ্যম কালের কণ্ঠ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
    মোঃ ইউনুস নেতৃত্বাধীন  সময়ে বিভিন্ন চক্রান্ত হয় দাবি করে তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পায়তারা হয় সে সময়।
    আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। যে কারণে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। অসংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে, বলেছিলেন সাহাব উদ্দিন।
    তার সেই দুঃসময়ে বিএনপির কাছ থেকে শতভাগ সমর্থন পাওয়ার কথাও বলেছিলেন তখনকার
    রাষ্ট্রপ্রধান।  বলেছিলেন আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ওই কঠিন সময়েও বিএনপি নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন তারা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।
    বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতুহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম তিনি খুবই আন্তরিকতা পূর্ণ মানুষ।he was so cordial. আমার সেই দু:সময়ে বিএনপি’র সহযোগিতা শতভাগ ছিল।
    ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গতবার ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষন শুরুর পর জামাতে ইসলামী ও এমসিপি সহ বিরোধী দলের সদস্যরা অক আউট করেন।
    রাষ্ট্রপতির ভূমিকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তার অবস্থান এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
    তখনো বিএনপি’র মন্ত্রী এমপিরা সংবিধানের বিধানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পক্ষে কথা বলেন।
  • *হঠাৎ পদত্যাগ*
    স্বাস্হ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে ঘুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য চিকিৎসক,  স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।
    ২০২০ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল অস্ত্রোপচার পরীক্ষা করাতেই তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন।
    ১২ মে কেমব্রিজের  “রয়াল প্যাপ ওয়ার্থ হাসপাতালে “রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয় সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিো প্লাস্টি করে একটি স্ট্যান্ট বসানো হয় এরপর তাকে চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
    ৯ দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। তখন বঙ্গভবনে প্রেস বিভাগ চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক বলে
    জানিয়েছিল।গত দেড় মাসে রাষ্ট্রপতি কে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা দেশের রাজনীতির অঙ্গনে ছিল না। গত ২২ জুলাই প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন (আল-জাজিরা)সায়ের এর এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে হঠাৎ করে আবার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়।জুলকারনাইন সায়ের, ফেসবুকে লেখেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। আরো বিস্ময়কর খবর হল নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোন শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
  • ♦♦এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি বৃহস্পতিবার দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সে সুযোগ তার আছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই।
    তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন সেদিন bdnews24.com কে বলেন রাষ্ট্রপতি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য গত ১৯জুলাই ব্যাংককে গিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার ফেরার জন্য ফিরতি টিকেট কাটা ছিল।
    সাংবিধানের নিয়ম হলো রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকার কে দায়িত্ব নিতে হয় নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
    সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সফরসূচী সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়। শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
    এরপর বিকাল সোয়া চারটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে  bdnews24.com কে তাঁর পদত্যাগের কথা বলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন।
    পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রপতি টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,  এটা তো সর্বজনবিধিত, আমার মুখ থেকে শুনে কি লাভ?  “Iam sick.so it is done”।
    পদত্য স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বলে দিছি বুঝে নেন ।
    এরপর বিকাল পাঁচটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করার পাশাপাশি নিজে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন। সাহাবুদ্দিনের সুস্থতা মঙ্গল কামনা করে স্পিকার বলেন,আওয়ামী  সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি সব সময় সমর্থক ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।
    পদত্যাগ পত্রের সঙ্গে চিকিৎসকের সনদ বা কোন চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ দেওয়া হয়েছে কিনা একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজেই তার রোগ গুলোর নাম লিখিতভাবে জানিয়েছেন এর জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোন প্রয়োজন নেই।
    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ  দেশের জন্য গুরুতর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে স্পিকার বলেন, একজন মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হতেই পারেন ভিন্ন কারণে রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন।
    তথ্য ঋণ:
    বিডিনিউজ টুয়েন্ট ফোর ডটকম।
  • রিপোর্ট সম্পাদনায় :
  • মো: মাহবুবুর রহমান খান, সম্পাদক – প্রকাশক,দৈনিক জনতার দেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category