মাহবুবুর রহমান খান:প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার বলে খ্যাত নরসিংদি আজ অপরাধের স্বর্গ রাজ্যে উপনীত হয়েছে।
ব্যবসায়ী,নিরীহ জনসাধারণের জিবন আজ হুমকির মুখে।
তাদের নেই জিবনের নুন্যতম নিরাপত্তা। প্রতিটি ব্যবসায়ী
বিত্তশালী ব্যক্তি,নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিক,জমির ক্রেতা
বিক্রেতা কে একটি নির্দিষ্ট মহল কে নিয়মিত চাঁদা দিতে
হচ্ছে। কোন নতুন বাড়ি-ঘর নির্মাণ করার সময় চাঁদা
না দিয়ে নির্মাণ কাজ করা আকাশ কুসুম কল্পনা।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ জানালে ভুক্ত ভোগীর কপালে নেমে আসে
অত্যাচারের খড়গ।পরবর্তীতে চাঁদার অংক আরো বেড়ে
যায়। অপরাধী চক্র কে চাঁদা না দিয়ে নিরাপদে নির্বিঘ্নে জিবন ধারণ করা বড় কঠিন। কোন বড় ইমারত নির্মাণ
করতে গেলে কিংবা ঠিকাদারি ব্যবসায় কোন অপরাধী চক্র বড় অংকের চাঁদা দাবি করলে বিষয় টি পুলিশ কে
অবহিত করলে চাঁদাবাজ দের দমন করার নামে অভিযোগকারির নিকট থেকে তাকে নিরাপত্তা দেয়ার নামে
পুলিশ কে যেমন চাঁদা দিতে হয় ঠিক তেমনি পুলিশের কাছে নালিশ করার কারণে সন্ত্রাসি চাঁদাবাজ গ্রুপ কে
আরো দ্বিগুন হারে চাঁদা দিতে হয় বলে নাম প্রকাশ
না করার শর্তে অনেক ভুক্তভোগী দৈনিক দেশ কে
তাদের হয়রানির কথা বলেন।তারা আরো বলেন প্রশাসন
চাঁদাবাজ কারো থেকেই আমরা নিরাপদ নই।
তারা ক্ষোভের সংগে আরো জানান,প্রশাসনের কাছে
নালিশ করে আমরা কোন উপকৃত হইনা যার ফলে
চাঁদা দিয়েই আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য সচল রাখতে
হয়।কি কারণে চাঁদাবাজি, খুন,রাহাজানি,চুরি,ছিনতাই
মাদক ব্যবসা প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি তা আসল
রহস্য জানতে দৈনিক জনতার দেশ এর কতিপয় ক্রাইম
রিপার্টার মাঠে নামে। সমগ্র নরসিংদীতে ব্যাপক হারে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসাবে যা উদঘাটিত
হয়েছে তা পাঠক সচেতনতার জন্য নিম্নে উল্লেখ করা
হলো।
১। মাদক- চোরাকারবারি অপরাধীদের সাথে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোপন সখ্যতা।
২।অপরাধীদের আস্তানায় অভিয়ান চালানোর পরিকল্পনা
গায়েবি ফাঁস হয়ে যাওয়া।
৩। অস্ত্র- মাদক চোরা কারবারিদের সাথে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাসোহার চুক্তি।
৪।আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য গণ সংশ্লিষ্ট
এলাকায় মামা,বড়ভাই,লিডার সম্বোধন করে তাদের
সাথে ওঠবস করা।
৫। নিজস্ব বাইকে অপরাধী সমন্বয়ে বিভিন্ন স্হানে ঘুরা ফিরা তাদের বাড়িতে আমন্ত্রিত মেহ মান হয়ে ঘণ ঘণ
দাওয়াত খাওয়া।
৬। পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধী গ্রেফতার না
করে তাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়।
৭। বিশ্বাস যোগ্য সোর্স না থাকা।
৮। নরসিংদী কারাগার থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার
না হওয়া।
৯। নরসিংদী সহ ৬ টি উপজেলার চিহ্নিত অস্ত্রধারী
মাস্তান,চাঁদাবাজ মাদক চোরাকারবারি
দের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে না পারা।
গত ৫ আগস্টের পর নরসিংদীতে গত ১ বছরে ২১ টি
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বেড়েছে মাদক ব্যবসা,অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি,বেড়েছে জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা
নেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা।
তবে জনতার দেশ একটি বিষয়ে ইতিবাচক তথ্য উদঘাটন
করেছে যে,নরসিংদির বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্হিতি উন্নয়নে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান আন্তরিক ভাবে কাজ করে য়াচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে রায়পুরা থেকে বেশকিছু অস্ত্র, গোলাবারুদ
ওয়াকিটকি উদ্ধারের পাশাপাশি ডজন খানেক চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি কে গ্রেফতার সহ বিপুল পরিমাণে
গাঁজা,ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
নরসিংদীবাসী আশাবাদি এসপি হান্নান এর নেতৃত্বে
একটি মাদক,সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত জনপদ হিসাবে নরসিংদী একদিন আত্ম প্রকাশ করবে এমনটিই
প্রত্যাশা সকল জেলাবাসির।
লেখক: সম্পাদক-প্রকাশক
দৈনিক জনতার দেশ।