• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখে উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে নেইমার! স্পেনের রাজপরিবারের দেয়া সম্মান মুহূর্তেই ম্লান করে দিলো বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ‘মেসি’ কে! ক্ষমতা আর কারাগার এই দুই মেরুর মাঝখানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থান! আগামী পাঁচ বছর এই জাতীয় সংসদ টিকবে কী’ না, সন্দেহ রয়েছে সন্দেহ রয়েছে —এন সি পি নেতা নাহিদ ইসলাম! তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড় আশঙ্কাঃসমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত ইন্টারনেট কেবল কেটে গেলে বিশ্বকে সচল রাখতে পারবে কি স্টার লিংক?? তথ্যপ্রযুক্তিতে বড় সংকটঃআর্টিফিশিয়াল (এআই) এর কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেম” আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্যঃগত ২৪ ঘন্টার অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫৯৮! বিতর্কিত পুলিশের ডিআইজি আব্দুল্লাহ জহিরের বাসভবন থেকে বিকৃত যৌনাচার ও মাদকের আস্তানা থেকে অবশেষে২৬ জন নারী এবং ৫৯ জন পুরুষের পরিচয় সনাক্ত! সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়িয়ে অবশেষে সচল করা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট! জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে টানাপোড়েনঃঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার!

ক্ষমতা আর কারাগার এই দুই মেরুর মাঝখানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থান!

Reporter Name
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |জনতার দেশঃ

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে। এই পরীক্ষায় পাস করলে তাঁকে আবার প্রধানমন্ত্রীর পদে দেখা যাবে। ফেল করলে তাঁর রাজনীতির ইতি ঘটতে পারে। আর চলমান মামলার বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে যেতে হতে পারে কারাগারে।
৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী আছে, তা নির্ধারিত হবে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। এদিন ইসরায়েলের ২৬তম পার্লামেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহু আরেক দফায় প্রধানমন্ত্রী হতে চান।
অনেকে এই নির্বাচনকে ইসরায়েলের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ নির্বাচন হিসেবে দেখছেন। এই নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি পুরো বিশ্বে দেখা যেতে পারে।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে জরিপ বলছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই পাবে না।
তেমনটা হলে জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্ব বেড়ে যেতে পারে। আবার ঝুলন্ত পালার্মেন্টের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ নামে পরিচিত। মোট আসনসংখ্যা ১২০টি। পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর। তবে একজন ব্যক্তি কতবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তার কোনো সীমা নির্দিষ্ট করা নেই।
নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের কমপক্ষে ৬১টি আসন পেতে হয়। ইসরায়েলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে এই আসন অর্জন করতে পারেনি।
ফলে নির্বাচনে প্রথম হলেই কোনো দল সরকার গঠন করতে পারে না। সরকার গঠনের জন্য জোট করতে হয়। ৬১ আসনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে জোট গঠনের জন্য দলগুলো ২৮ দিন সময় পায়। এই সময়কাল প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
এই সময়ে দলগুলো জোট গঠনে ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হবে। ইসরায়েলে এমন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার নজির আছে বেশ। যেমন ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে পাঁচটি নির্বাচন হয়েছে।
ইসরায়েলিরা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে নয়, ভোট দেন একটি নির্দিষ্ট দলকে। জাতীয়ভাবে প্রতিটি দলের পাওয়া ভোটের আনুপাতে নেসেটে আসন বণ্টন হয়।
কোনো দল ৪০ শতাংশ ভোট পেলে তারা নেসেটে ৪০ শতাংশ আসন পাবে। পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার জন্য কোনো দলকে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। পার্লামেন্টে আসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতি নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ছোট রাজনৈতিক দলগুলো একীভূত হয়ে যায়।
নির্বাচনের দিন ইসরায়েলে সরকারি ছুটি। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্যমতে, ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সী প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য। বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোট শুরু হবে সকাল ৭টায়। রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত যাঁরা সারিতে অপেক্ষমাণ থাকবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচনের দিন স্থানীয় সময় রাত ১০টার পর ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশ শুরু করবে। এই জরিপগুলো থেকে ফলাফলের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে জরিপের সঙ্গে বাস্তবের ফলাফলে বড় ধরনের তারতম্য থাকতে পারে। এখনকার জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে, এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট কোনো বিজয়ী পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
নির্বাচনের পরের দিন ভোটের প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
গত ৩৮ বছরের মধ্যে বিদায়ী পার্লামেন্ট (২৫তম নেসেট) চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছে। নির্বাচন সামনে রেখে গত জুলাই মাসে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়।
বিদায়ী পার্লামেন্টে নেতিনিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ছিল ৬০। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসন ছিল ৩২টি। ক্ষমতাসীন জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর মধ্যে শাসের ১১টি, রিলিজিয়াস জায়োনিস্টের ৭, ওতজমা ইয়েহুদিতের ৬ ও নিউ হোপের ৪টি আসন ছিল।
বিরোধীদের ছিল ৫৯টি আসন। এর মধ্যে ইয়েশ আতিদের ২৪টি, ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের ৮, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের ৭, ইসরায়েল বেইতেনুর ৬, হাদাশ-তা’আল ও রা’আমের ৫টি করে এবং লেবারের ৪টি আসন ছিল। অপর আসনটি নোয়ামের। তারা কোনো দল বা জোটের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। এর পর থেকে দেশটিতে ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন নেতানিয়াহু। কয়েক দফা মিলিয়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের মোট সময় ১৯ বছর।
১৯৯৬ সালে নেতানিয়াহু প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। এই দফায় ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। দ্বিতীয়বার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন ২০০৯ সালে। এবার একটানা ১২ বছর, অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদি জোট সরকার পরিচালনা করেন তিনি। তৃতীয়বার ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে এখনো বহাল।
এই দফায় নেতানিয়াহুর সরকারকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। প্রায় ২৫০ জন মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।
গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
নেতানিয়াহু তাঁর ক্ষমতার এই দফায় লেবানন, ইরান, ইয়েমেনসহ আঞ্চলিক নানা যুদ্ধে জড়ান। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরম ব্যর্থতা, সব জিম্মিকে জীবিত ফেরত আনতে না পারাসহ নানা ইস্যুতে নিজ দেশে তাঁর বিরুদ্ধে দফায় দফায় বড় বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। নানা বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে জোট সরকার পরিচালনায় হিমশিম খেয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি অপরাধের মামলা। বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইসরায়েলে তিনটি মামলার বিচার চলমান। মামলাগুলোয় বিচার শুরু হয় ২০২০ সালে। তার পর থেকে তিনি নানা অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।
ইসরায়েলের ইতিহাসে নেতানিয়াহুই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী, যিনি ক্ষমতাসীন অবস্থায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। এসব মামলা নেতানিয়াহুকে সব সময় তাড়া করে বেড়ায়। তিনি ক্ষমতা হারালে বিচারপ্রক্রিয়া যে গতি পাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
তথ্য: প্রথম আলো

ছবিঃ

# সংগৃহিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category