কেন্দুয়া থেকে কোহিনূর আলম:
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গতকাল (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎধীন তিনি পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে । গত (২৮ নভেম্বর) জানাজা শেষে শেষ শ্রদ্ধায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় ।
ভাগ্যিস! তুমি বেঁচে গেলে সীতা (১৯৯৭) কাব্যগ্রন্থটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত । নীল বোতামের কাব্য (২০১৭),
নীল নীলিমার নীলে (২০১৮) নামেও আরো দুটি একক কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর । এছাড়া যৌথভাবে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যুগলবন্দী ও তাঁর সম্পাদনায় হেলাল হাফিজের অপ্রকাশিত কথামালা নামে একটি বই প্রকাশিত হয় ।
ভীষণ নিভৃতচারী ও জীবন সংগ্রামী কবি নেহাল হাফিজ এঁর জন্ম ১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি নেত্রকোণায় ।
তবে জীবনের আলপথ পেরিয়ে অনেকটা সময় তিনি কাটিয়েছেন কেন্দুয়ায় । এখানে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন এক ভিন্ন আঙ্গিকে । তিনি বিয়ে করেছিলেন চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা গ্রামে । কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাব ও চর্চা সাহিত্য আড্ডাসহ আমৃত্যু জড়িয়েছিলেন বিভিন্ন সংগঠন ও সৃষ্টিশীল মানুষের সাথে । কবি নেহাল হাফিজের স্কুল জীবন থেকেই সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি ছিলো গভীর আগ্রহ । আপাদমস্তক কবিতাই ছিলো তাঁর নেশা, তাঁর পরিচয় । তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন, কনিষ্ঠ । দেশবরেণ্য কবি হেলাল হাফিজ ছিলেন তাঁর বড় ভাই ; যিনি গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মারা যান ।
মণীষা সুলতানা (নেলী) ও বিপাশা সুলতানা (নীলা) নামে কবি নেহাল হাফিজের দুই কন্যা রয়েছে ।
মণীষা জানান, “বয়সজনিত নানান জটিলতায় ভুগছিলেন বাবা । গত সপ্তাহে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করি । সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।”
কবির প্রথম জানাজার নামাজ সকাল ১০টায় কেন্দুয়া জয় হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ও দ্বিতীয় জানাজার নামাজ বেলা আড়াইটার নিজ গ্রাম চানখাঁ বড়তলীতে অনুষ্ঠিত হয় । এবং ওখানেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় ।
তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্য অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।