শিরোনাম :
আহমদ ছফার বিয়ে ও শামীম শিকদার প্রসঙ্গ। যত চাপই আসুক ব্রিটেন কে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে নেয়া যাবেনা —- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। একটি শিক্ষনীয় গল্প এবং আমাদের মানবিক চরিত্র। ৯ম পদাতিক ডিভিশনের নিষ্ক্রিয়তা: ৪ আগস্টের রহস্য ঘিরে নতুন প্রশ্ন। আধুনিক বিকৃত ইসলাম এবং মদিনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কারিকুলাম। জন দুর্ভোগের সূতিকাগার নরসিংদী পৌরসভা হরমুজ প্রণালী কে ইস্যু করে তেহরানের নতুন পরিকল্পনা ৩ শ্রেণীতে বিভক্ত দেশ। কূয়াকাটায় ছাত্র হিযবুল্লাহর উদ্যোগে দাখিল পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তৈরির আশঙ্কা, নিজ নিজ শর্তে ই*রান- আ*ম্রিকা দু’পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ, সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোন পক্ষ। কুরআনের অপব্যাখ্যার অজুহাতে কুষ্টিয়ায় কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর কে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্য কাহিনি।
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

আহমদ ছফার বিয়ে ও শামীম শিকদার প্রসঙ্গ।

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

ড. মোহাম্মদ আমীন:;
ছফা ঢাকায় আসার পর থেকে অনেক দিন অন্যের আশ্রয়ে থেকেছেন। আচরণিক স্পর্শকাতরতার কারণে কেউ তাঁকে বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারতেন না। দরিদ্র পিতার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও ছিল না। একসময় তিনি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। থাকা-খাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ল। অনোন্যপায় ছফা, বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় গিয়ে প্রুফ দেখার কাজ শুরু করে দিলেন।
তখন ফর্মা প্রতি কত টাকা দেওয়া হতো? আমি প্রশ্ন করলাম।
আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার বললেন, তিন বার প্রুফ দেখলে সাড়ে তিন আনা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।
থাকতেন কোথায়?
দুই বছর ছিলেন আমার রুমে। যাই হোক, এমন আর্থিক দুরবস্থাতেও ছফা সুযোগ পেলে বিয়ে করার জন্য পরিচিত মেয়েদের কোনো রাখঢাক ছাড়াই অনুরোধ করে বসতেন। ছফা বলে বেড়াতেন— “শামীম সিকদার, সুরাইয়া খানম, নার্গিস আক্তার এমনকি মালেকা বেগমের মতো স্মার্ট মেয়েও আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন।”
আসলে কি ঠিক?
না। কেউ তাঁকে বিয়ে করতে চা্ইতেন না, বরং ছফার প্রস্তাবে বিরক্ত হতেন এবং কেউ কেউ অপমান বোধ করতেন।

একদিন ছফা, শামীম শিকদারকে নিয়ে গেলেন আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যারের বাসায়।
কী ব্যাপার? আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার জানতে চাইলেন।
ছফা বললেন, শামীম সিকদার আমাকে বিয়ে করতে চাইছে, বিয়ে করার জন্য নিয়ে এলাম।
আমার বাসায় কেন?
আমার থাকার জায়গা নেই। বিয়ে করে আপনার বাসায় থাকব। থাকতে দিতে হবে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার বললেন, এক মাস থাকতে দিতে পারি, তবে একটা শর্ত আছে।
কী শর্ত? ছফা জানতে চাইলেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার বললেন, আগে বিয়েটা রেজিস্ট্রি করতে হবে। কাজির প্রয়োজন। তারপর থাকাথাকি। আপনি কাজি নিয়ে আসুন।
ছফা কাজি আনার জন্য চলে গেলেন।
তারপর? আমি জানতে চাইলাম।
ছফা চলে যাবার কিছুক্ষণ পর শামীম সিকদারও চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন, আমি যাচ্ছি।
বিয়ে?
শামীম শিকদার হেসে বললেন, একটু মজা করলাম ছফা ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি যেখানে সেখানে বিরক্ত করেন- সবাইকে বলে বেড়ান, আমি নাকি তাঁকে বিয়ে করার জন্য পাগল। আসলে, ছফা ভাই হিউম্যান বিহেভিয়ারে দুর্বল।
তারপর কী হলো?
শামীম সিকদার চলে গেলেন। ছফাও আর ফিরলেন না। এখানেই বিয়ে শেষ। জীবনে তিনি আর বিয়েই করতে পারলেন না।চিরকুমার অবস্থায় ত্যাগ করলেন পৃথিবী।
সূত্র: অহর্ণা ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category