জনতার ডেক্স রিপোর্ট :
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তার আপত্তির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। কিন্তু শর্ত মানতে রাজি হয়নি ইরান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এর ফলে কোন ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে ইরান যুদ্ধ অবসানে ইরানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক। এদিকে উচ্চ পর্যায়ের ওই আলোচনা শেষে এক বিবৃতিতে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে একতা বলেছেন। ইসলামাবাদে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার রেড লাইন সহ সব শর্তে দেশটি ছাড় দিতে রাজি নয় তা স্পষ্ট করেছে। কিন্তু ইরান আমাদের শর্তে রাজি হয়নি। তিনি আরো বলেন,আমরা এমন কোন অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে। ইরানের সঙ্গে কোন সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখন পাকিস্তান ছেড়ে দেশে ফিরে যাবেন বলেও জানান তিনি। আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে এখনো আলোচনা চালিয়েছি কিন্ত খারাপ খবর হল আমরা এখনও কোন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি। ব্রিফিংয়ে মিস্টার ভ্যান্সের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা জেরেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইট কফ উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং ফিল্ড মার্শাল মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেডি ভ্যান্স।এই আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন অথবা যে সীমাবদ্ধতাই থাকুক না কেন এর জন্য পাকিস্তানিরা দায়ী নয় বরং তারা অসাধারণভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই মিস্টার ভ্যান্স ও মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত :
শান্তি আলোচনায় সৃষ্ট অচলা বস্হা কাটাতে ইরানের ওপর আবারও সীমিত আকারে সামরিক হামলার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা।হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের পাশাপাশি এই হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘ওয়াল ট্রিট জার্নাল’।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার গতি ফেরাতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে এই সীমিত সামরিক পদক্ষেপ কে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলেও এখন সেই চাপের মাত্রা আরও বাড়াতে সরাসরি হামলার পথ ব্যাচে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
দীর্ঘ ২১ ঘন্টার ম্যারাথন বৈঠকের পরও ঐক্য মত্যে ব্যর্থ হয়েছে দুই পক্ষ। আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীরবতা জন্ম দিয়েছে এক নতুন রহস্যের। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বলবদ থাকায় বৈশ্বিকবাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি বেড়ে গেছে ১০০ ডলারে। এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে সামনের দিনগুলোতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গোটা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মহল।
তথ্য সূত্র:
# রয়টার্স
#ইউএনবি
# পিটিআই
#ভয়েজ অব আমেরিকা
# ওয়াল স্ট্রিট জার্ণাল
#বি,বি,সি
# প্রথম আলো
# দৈনিক যুগান্তর